ডিএনসিসির ৪ হাজার ৫০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট

 

নিউজ ডেস্ক: রাজস্ব ব্যয় সীমিত রেখে উন্নয়ন ব্যয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। একইসঙ্গে সংস্থাটির দ্বিতীয় কর্পোরেশন সভায় ৪ হাজার ৫০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদিত হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ২ হাজার ৬০৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও অনুমোদিত হয় সভায়। বাজেটে মশক নিধন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্প্রসারিত নতুন ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এদিকে বাজেট অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সকল প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করতে নির্দেশ দিয়েছেন ও ভাল কাজের পুরস্কার এবং মন্দ কাজের তিরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি। অনলাইনের মাধ্যমে প্রধান অতিথির শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন তিনি।

সভার শুরুতে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও সাহারা খাতুন, মেয়রের বড় ভাই প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম এবং কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সকলের উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ১০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা ৬৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিতির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনস্ত দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের চলতি বছরের বাজেট অনুমোদনের বোর্ড মিটিং-এ অংশগ্রহণকারী সকল কাউন্সিলরের উদ্দেশে এ আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মানুষের সুখে দুখে তাদের পাশে থাকতে হবে। রাস্তা ঘাট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যেন মানুষ বুঝে যে এক হাজার টাকা রাজস্ব দিলে এক লাখ টাকার সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে। তাহলেই মানুষ কর দিতে উৎসাহী হবে। মন্ত্রী বলেন, আর এতে করে একদিকে যেমন এসব প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী হবে অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে নাগরিক সেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে সবার জন্য কল্যাণকর, সুখী ও শান্তিময় পরিবেশ তৈরি হবে। নাগরিকদের কাছ থেকে কর আদায় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কর নির্ধারণ সুষম হতে হবে, কোন পক্ষপাত যেন না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধি স্ব স্ব এলাকা পরিচ্ছন্ন, এডিস মশামুক্ত, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানুষের মৌলিক সমস্যা দূরীকরণ, সামাজিক মূল্যবোধ তৈরি ও প্রত্যাশিত কর আদায়সহ অন্য সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবে তাদের একটি চেক লিস্ট তৈরি করে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের কাজে গতি আনতে নিজ এলাকা জোন ভিত্তিক ভাগ করে ওই এলাকার সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে কমিটি গঠন করার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, গঠিত কমিটির টিম লিডার যারা ভাল কাজ করবেন তাদেরও পুরস্ব‹ৃত করা হবে।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, মন্দ কাজ করলে যেমন শাস্তি পাবে তেমনি যারা ভাল কাজ করবেন তাদের পুরস্কৃত করতে হবে। তাহলে ভাল কাজ করার আগ্রহ বাড়বে, দেশের উন্নয়নে গতি আসবে। নাগরিক সেবা বৃদ্ধি করতে কারও নির্দেশের অপেক্ষা না করে নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে যে কোন বাধার সম্মুখীন হলে তার নিরাপত্তা দিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ দেশের মালিক, দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হলে জনগণের অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। তাই সকল কাজে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, মূলত হোল্ডিং ট্যাক্স, বাজার সালামি, ট্রেড লাইসেন্স ফি, সম্পত্তি হস্তান্তর কর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আদায় না হওয়ায় মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৯৬১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। রাজস্ব আয় ছাড়া অন্যান্য আয় ১২ কোটি টাকা এবং সরকারী অনুদান ১৫০ কোটি টাকা এবং সরকারী ও বিদেশী সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প হতে ৩ হাজার ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রাজস্ব ব্যয় ৬১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম খাতে ৭০ কোটি টাকা, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ১০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। মেয়র বলেন, নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে জরুরী নাগরিক সেবা যেমন মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ ব্যয় করতে হচ্ছে। আবার এ ১৮টি ওয়ার্ড থেকে ডিএনসিসির আয় একেবারে শূন্য। এই ১৮টি ওয়ার্ডে অবস্থিত বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করার বিষয়ে আমরা ভাবছি। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অন্যান্য ব্যয় ১৩ কোটি টাকা এবং মোট উন্নয়ন বাজেট বাবদ ব্যয় ৩ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব উৎস ও সরকারী অনুদান থেকে ৫৯৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা, সরকারী বিশেষ অনুদান ৫০ কোটি টাকা, এবং সরকারী ও বিদেশী সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন বাবদ ৩ হাজার ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটের বিস্তারিত বিবরণ ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

বাজেট সম্পর্কে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, এ বাজেটে রাজস্ব ব্যয় সীমিত রেখে উন্নয়ন ব্যয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মশক নিধন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্প্রসারিত নতুন ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মেয়র হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ওপর জোর দেয়ার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ১ হাজার গাছ লাগাতে হবে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এবারের বাজেটে মশক নিধন খাতে গত বছরের চেয়ে ২০ কোটি ৭ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ খাতে গত অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু বরাদ্দ থেকেও ৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বেশি অর্থ খরচ করেছে সংস্থাটি। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে মশক নিধন খাতে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।