বিশেষ লেখা: আতঙ্ক নয়, আরও সতর্ক হোন

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ:  দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ অতিক্রম করেছে। মৃত্যুও আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছিলেন। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজন মৃত্যুবরণ করেন। প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার দিন থেকে হিসাব করলে ১৮ জুলাই শনিবার ছিল ১৩৩তম দিন। এ সময়ে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৯ শতাংশের কিছু বেশি। মৃত্যু হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশের মতো।

এর বিপরীতে সুস্থতার হার ৫৪ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই সুস্থ হয়ে উঠছেন। এটি আশাব্যঞ্জক খবর। মৃত্যুহার কম মানে এই নয় যে, কারও মৃত্যু কাম্য। যে কোনো রোগে একজনেরও মৃত্যু কাম্য হতে পারে না। কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কিছুটা বেড়েছে। তবে সেটি ২৪ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে স্থির থাকছে। এছাড়া করোনার লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা গত কয়েকদিনে হ্রাস পেয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আমরা পরিস্থিতির উন্নতির দিকে যাচ্ছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগস্টের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে সংক্রমণ হয়তো কমে আসতে পারে। সে জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও এখনও অনেকেই তা মানছেন না। মনে রাখতে হবে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে না চললে আমরা কোনেদিনই এই রোগটি থেকে মুক্তি পাব না। আমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। এই ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অনেকেই হয়তো বাড়ি যাওয়ার কথা ভাবছেন। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, অতি প্রয়োজন ছাড়া এ সময়ে ঘর থেকে বের হবেন না। ঘরে বসে ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন। এ ছাড়া ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে পশুর হাট বসবে। সুতরাং এই হাটে যারা পশু কেনাবেচার জন্য যাবেন, তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, সবাই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই পালন করবেন। সবশেষে বলব, করোনাভাইরাস নিয়ে কেউ আতঙ্কিত হবেন না বরং সতর্ক থাকবেন, যাতে সংক্রমিত না হন।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি