করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৭৭৬ জনের মৃত্যু, বিপিওর প্রতিবেদন

 

নিউজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বিভাগটিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে মোট ৫৫২ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা বিভাগে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৭১ জনের।

বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি-বিপিও এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বিপিও’র ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রকল্প বিপিও দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে এই তথ্যচিত্র প্রকাশ করে আসছে।

বিপিও’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার কারণে অপমান ও সামাজিকভাবে হেয় করার ২৩১টি ঘটনা ঘটেছে। করোনা আক্রান্ত না হয়েও মেডিক্যাল পেশজীবিদের কাছ চিকিৎসা পাননি ৬৭ জন ব্যক্তি। করোনায় মৃত্যুর কারণে মৃতদেহ দাফন বা শেষকৃত্য করতে অস্বীকারের ঘটনা ঘটে ৫৮টি। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয় ১২ জনকে, পরিবার ছাড়া হন ৪৫ জন এবং মেডিকেল পেশাজীবি সংক্রান্ত হয়ারানির ১৯টি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও হয়রানি ও অপমানের শিকার হন ১৩ জন এবং আত্মহত্যা করেন দুইজন।

এতে বলা হয়, এ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসের কারণে ১১ জুলাই পর্যন্ত ১৩৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৫৩ জন আহত এবং ১৮ জন নিহত হয়। সর্বশেষ জুন মাসে করোনাজনিত কারণে সংঘটিত ১৬ সংঘর্ষের ঘটনায় ৯২ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়েছে।

করোনাকালীন সময়ে ত্রাণ আত্মসাত ও দুর্নীতির জন্য ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১০৭ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে ত্রাণ আত্মসাৎ, মানহীন গ্লাভস, মাস্ক, পিপিই, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি, খাদ্যে ভেজাল, দুর্নীতি এবং করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের মতো অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত মোট ৫৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৭৫ জনকে।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ৮৫টি ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৮৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। সবচেয়ে বেশি ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ঢাকা বিভাগ থেকে আর সবচেয়ে কম ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজশাহী বিভাগ থেকে।