চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

নিউজ ডেস্ক:   চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য রাখার ৩ নম্বর শেড বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত হয়েছে। বিকাল ৪টায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন শেডের ভেতর ছড়িয়ে পড়লে কালো ধোঁয়ায় বন্দরের আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আশপাশের এলাকার জনসাধারণের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়।

বন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও নিরাপত্তাকর্মীরা বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় রেড এলার্ট সতর্কতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আগ্রাবাদস্থ ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিটের ১৩টি গাড়ি বন্দরের ৩ নম্বর শেডে আগুন নেভাতে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে।

প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী আগুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন জহির। তিনি বলেন, ‘আগুন অত্যন্ত ভয়াবহভাবে ৩ নম্বর শেডের পশ্চিমাংশের বিশাল এলাকা ভস্মীভূত করেছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আগুন নেভানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ৩ নম্বর শেডে দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে আমদানিকারকদের পরিত্যক্ত, দাবিদারহীন ধ্বংসযোগ্য বিভিন্ন ধরণের পণ্য রয়েছে। এই শেডের ভেতরে বিকাল ৪টায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত সাপেক্ষ। এই শেডে পুরনো কাপড়, বিপুল পরিমাণ ফোম এবং পুরনো বাতিল রাসায়নিক পদার্থসহ বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষিত আছে। রুটিন মাফিক কাস্টমস কর্মকর্তারা অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের নিয়ে এই শেড থেকে পণ্য বাইরে নিরাপদ স্থানে কমিটির মাধ্যমে ধ্বংস করে থাকেন। এখানে কিভাবে আগুন লেগেছে তার কারণ নির্ণয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সার্বিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নির্ণয় করা হবে।

এদিকে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আবুল কালাম আজাদসহ বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে আছেন। তারা এই ভয়াবহ আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্যদিয়ে নিরাপত্তা তদারকি পরিচালনা করেন। এসময় বন্দরকে রেড এলার্ট সতর্কতা রাখা হয় বলে নিরাপত্তা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান।