কালিহাতীতে শাজাহান সিরাজের জানাজা অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক:    টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় বুধবার সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী বিএনপি নেতা শাজাহান সিরাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জানাজায় অংশ নিতে এবং তার কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।

বুধবার দুপুর ১২টায় এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা ও দুপুর আড়াইটায় কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে গার্ড অব অনার শেষে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তার। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এ জানাজায় অংশ নেন।

এর আগে সকাল ১১টায় শাজাহান সিরাজের মরদেহ ঢাকা থেকে এলেঙ্গায় পৌঁছায়। এরপর এলেঙ্গা ও কালিহাতীতে প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজা অংশ নেন- টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বি.কম, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালিহাতী পৌর মেয়র আলী আকবর জব্বার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম শোভা, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজনু মিয়া, এলেঙ্গা পৌরমেয়র নূরে আলম সিদ্দিকী, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, কালিহাতী উপজেলা কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ইথার সিদ্দিকীসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ, বিএনপি অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা।

শাহজাহান সিরাজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। ২০১২ সালে তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এর কয়েক বছর পর ক্যান্সার ধরা পড়ে মস্তিষ্কেও।

শাহজাহান সিরাজ বিএনপির শাসনামলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ছিলেন। দলটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। অসুস্থতার কারণে ২০১৬ সালের পর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না তিনি।

১৯৪৩ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করেন শাহজাহান সিরাজ। একজন সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি ১১ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি ১৯৭০-৭২ মেয়াদে অবিভক্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ, নিউক্লিয়াসের সক্রিয় কর্মী, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা।

শাহজাহান সিরাজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধুর সামনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন তিনি। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সশস্ত্র যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর সর্বদলীয় সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনে ভূমিকা পালন করেন, যা ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী দল। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন শাহজাহান সিরাজ। পরবর্তীতে জাসদে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাসদের মনোনয়নে তিনবার তিনি জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। সর্বশেষ বিএনপির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন শাহজাহান সিরাজ।