দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দাবি অবৈধ: যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক :    বেইজিং-ওয়াশিংটন উত্তেজনার আগুনে যেন আরেক দফা ঘি ঢেলে দিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরকে নিজেদের সামুদ্রিক সাম্রাজ্য হিসেবে বেইজিংকে বিবেচনা করতে দেওয়া হবে না। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ চীন সমুদ্রে চীনের কর্মকাণ্ড ও সম্পদ সংগ্রহের চেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি। টুইটারে পাল্টা এক বিবৃতিতে পম্পেরও বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

দক্ষিণ চীন সাগরের সমুদ্রের ৯০ শতাংশই নিজেদের বলে দাবি করে চীন। সেখানে একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করছে দেশটি। তথাকথিত নাইন-ড্যাশড লাইন নামের ওই অঞ্চলে দ্বীপ তৈরি, টহল এবং সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ওই দাবি জোরাল করছে তারা। তবে তাইওয়ান, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামও সাগরের ওই এলাকাটি নিজেদের বলে দাবি করে। কয়েক শতাব্দী ধরেই এলাকাটি নিয়ে এসব দেশের বিরোধ চলছে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুট ওই সাগরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দাবি না করলেও চীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রায়ই সেখানে যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিসহ সামরিক মহড়া চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘ওই অঞ্চলে এককভাবে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি বেইজিংয়ের নেই। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই বিরোধপূর্ণ জলসীমার নিয়ন্ত্রণ নিতে চীনের উস্কানিমূলক প্রচারণা ভুল।’

চীনের দাবির নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই বলে আসছে আঞ্চলিক বিরোধে কোনো পক্ষ নেবে না। তবে ওই অঞ্চলে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দাবি রয়েছে। এসব সমুদ্র সীমায় অন্য কোনো রাষ্ট্রের মৎস্য আহরণ কিংবা হাইড্রোকার্বন উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটাতে চীনের যে কোনো কর্মকাণ্ড কিংবা এই ধরণের কর্মকাণ্ড এককভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে বেআইনি। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনকে নিজেদের সাম্রাজ্য বিবেচনা করতে দেবে না বিশ্ব।’

পম্পেও’র এমন বিবৃতির নিন্দা জানিয়েছে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইচ্ছাকৃতভাবে সমুদ্র আইন সম্পর্ত জাতিসংঘ কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইন বিকৃত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সম্পূর্ণ নৈতিকতাহীন। চীন এর প্রতিবাদ জানায়।’

চীন থেকে করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়া, হংকংয়ে নতুন আইন করার বিষয়ে বেইজিংয়ের হস্তক্ষেপ এবং উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর দেশটির অত্যাচারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কে কয়েকমাস ধরে অবনতি ঘটেছে। পম্পেও’র নতুন বিবৃতি সেই তিক্ততায় উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিল।