বিদেশি নতুন বিনিয়োগ খুঁজতে হবে

নিউজ ডেস্ক:  অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ কোভিড অভিঘাত মোকাবেলার পাশাপাশি বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে কর্মপন্থা ও নীতিমালা নির্ধারণ এবং চলমান সংস্কার কর্মসূচি দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন। একইসাথে তারা কোভিড প্রেক্ষিতে সৃষ্ট সুযোগ বিশেষ করে ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়া থেকে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার সুপারিশ করেছেন।

অনলাইনে রিসারজেন্ট বাংলাদেশ আয়োজিত ‘অনিশ্চিত সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ : বাংলাদেশে কোভিডের প্রভাব ও নীতিমালার প্রয়োগ’ বিষয়ক সংলাপে তারা এই মতামত ব্যক্ত করেন।

রিসারজেন্ট বাংলাদেশ, এমসিসিআই, ডিসিসিআই, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ,বিল্ড এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি ফ্ল্যাটফরম।

এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম,জাতীয় সংসদ সদস্য ওয়াসেকা আয়শা খান ও নাহিম রাজ্জাক, বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সালাউদ্দিন ইসলাম, বিল্ড চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি শামস মাহমুদ,চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম,এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাদের লেলে,জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, স্প্যানিশ চেম্বারের সভাপতি নুরিয়া লোপেজ,ফরেন চেম্বারের নির্বাহী পরিচালক নূরুল কবির,ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংলাপে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার খেলাপী ঋণ হ্রাস ও কাস্টমস আইন যুগোপযুগীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও সরকারি দফতরসমূহের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারিদের ওয়ান স্পট সার্ভিসের সুবিধা আরো সহজভাবে দেয়া যাবে।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সালাউদ্দিন ইসলাম জানান,কোভিড অতিমারির মধ্যেও তিনটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইপিজেডে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে।এতে স্পষ্ট হচ্ছে কোভিড পরবর্তীতে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ব্যবসায় পরিবেশের উন্নয়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ সম্প্রসারনের কাজ চলছে। কোভিড মোকাবেলায় ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ ও কম শ্রম ব্যয়ের সুবিধা বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিল্ড চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান চীন ও ভারতের বিশাল বাজারের সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন,বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষনের সাথে জড়িত সরকারি সংস্থাসমূহ যেন আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেন ও উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন।

এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর কাস্টমস আইন যুগোপযোগিকরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মূল প্রবন্ধে ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন,কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বে শিল্প উৎপাদন খাতে যে পরিবর্তন এসেছে সেগুলো চিহ্নিতকরণ, বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট নীতি-কাঠামো সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।