মসজিদ থেকে টেনে বের করে মুসল্লিকে কুপিয়ে হত্যা

নিউজ ডেস্ক:   কুমিল্লার চাঙ্গিনী এলাকায় মসজিদ থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে প্রকাশে আক্তার হোসেন (৫৫) নামে মুসল্লিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে তার ভাই ও পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার এমনই দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় নিহত আক্তারকে বাঁচাতে গিয়ে ছয় জন আহত হন। নিহত আক্তার হোসেন চাঙ্গিনী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে চাঙ্গিনী মসজিদের সামনে প্রকাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের তিন ভাইকে আটক করেছে।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকার আক্তার হোসেন ও কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। আক্তারদের ঘরের পাশের একটি জায়গা নিয়ে কাউন্সিলরের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এছাড়া নিহতের ছোট ভাইয়ের সাথে কাউন্সিলর আলমগীরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। শুক্রবার সকালে নিহত আক্তার হোসেন ও কাউন্সিলরের এক ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এতে, সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন, তার পাঁচ ভাই, ভাতিজা ও পরিবারের সদস্যরা মসজিদের কাছে নামাজের আগে লোহার রড, পাইপ ও চাপাতি মজুদ করে।

চাঙ্গিনী মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা বের হওয়ার সময় কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে তার ভাই ও ভাতিজারা মসজিদ থেকে আক্তার হোসেনকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনেন। এরপর প্রকাশে শত মানুষের সামনে আক্তার হোসেনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

এ ঘটনার পর কুমিল্লা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আক্তার হোসেন। পুলিশ কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের তিন ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন, তফাজ্জল হোসেন ও আমির হোসেনকে আটক করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। কাউন্সিলরের পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।

নিহত আক্তার হোসেনের ভাই যুবলীগ নেতা আলাল জানান, ‘শুক্রবার বিকালে জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে এলাকায় ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় কাউন্সিলর আলমগীরকে নিমন্ত্রণ না করায় সে ক্ষিপ্ত হয়। এ নিয়ে সকাল থেকেই তাদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। ঘুড়ি উৎসবে আমন্ত্রণ না পেয়ে এবং পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হামলা চালানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মসজিদে জুমার নামাজ শেষ করার সাথে সাথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আলমগীর কাউন্সিলরের নেতৃত্বে তার তিন ভাইসহ অন্যান্যরা লোহার রড, দা ও লাঠি নিয়ে প্রথমে মসজিদের বারান্দাতে এবং পরে মসজিদের সামনে হামলা চালায়।’

নিহত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ হোসেন বলেন, ‘কাউন্সিলর, তার ভাই, ভাতিজা ও পরিবারের সদস্যরা আমার বাবাকে মসজিদ থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে সবার সামনে কুপিয়ে হত্যা করে। আমিও বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হই।’

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন ও তার ভাইয়েরা আক্তার হোসেনের ওপর হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। নামাজ শেষ হওয়ার পর কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের নেতৃতে কাউন্সিলরের পরিবার এই হামলা করে। এ ঘটনায় তার তিন ভাইকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’