‘বিরোধী দলকে নিঃশেষ করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী সরকার আরো বেশি আগ্রাসী নাৎসিবাদী পথ অবলম্বন করে বিরোধী দলকে নিঃশেষ করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামকে গ্রেপ্তার তারই বর্ধিত প্রকাশ।’

ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মহাসচিবের ওই বিবৃতি পাঠান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারি দলের লোকেরা এই করোনাকালেও দুর্নীতি, লুটপাট ও আত্মসাতের কাজে খুব উৎসাহ নিয়ে সারা দেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা এসব অনাচারের প্রতিফলন প্রতিদিন দেখছি সংবাদপত্রের পাতায় পাতায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান এই ক্রান্তিকালে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে সরকার। দেশকে বিএনপিশূন্য করাই যেন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এখন প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনি তৈরি করে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এই জন্য যে সরকারি অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যেন টুঁ শব্দ না করতে পারে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুকে গ্রেপ্তার বর্তমান সরকারের এক ঘৃণ্য অপকর্ম।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সরকারের হাত থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের মানুষ কেউই রেহাই পাচ্ছে না। সরকারের সর্বগ্রাসী থাবায় নেতাকর্মীদের জেল-জুলুমের শিকার হতে হচ্ছে। সেদিন খুবই নিকটবর্তী, যেদিন বর্তমান সরকারের কুশাসনের মুলোৎপাটন ঘটবে।

বিএনপির মহাসচিব অবিলম্বে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসানকে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নরসিংদীর সাটিরপাড়ার রাঙ্গামাটি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।

আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, এই অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় আসার জন্য একের পর এক ঘৃণ্য চক্রান্ত করে যাচ্ছে। দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষের ছায়া আড়াল করার জন্যই ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে। করোনার এ সময়ে আকরামুল হাসানকে গ্রেপ্তার সরকারের উসকানি ছাড়া কিছুই নয়। এই অবৈধ সরকার আন্দোলন-সংগ্রাম তো দূরের কথা, বিরোধী দল ও মতের কাউকে বাধাহীন ঘুরতে দিতেও নারাজ। তারা যেকোনো মূল্যে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। আর এ জন্যই বিরোধীদলীয় নেতাদের একের পর এক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন তরুণ রাজনৈতিক নেতা হলেন আকরামুল হাসান। তিনি ছাত্রদলসহ দেশবাসীর কাছে একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। যখন কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতার মধ্যে।

নেতৃদ্বয় অবিলম্বে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।