অবৈধ বাংলাদেশী মেসিডোনিয়া এবং তুরস্কের পশ্চিম উপকূলে আটক

নিউজ ডেস্ক:    করোনাকালেও অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে কয়েকশ’ বাংলাদেশীকে ইউরোপের ছোট্ট দেশ মেসিডোনিয়া এবং তুরস্কের পশ্চিম উপকূল থেকে আটক করা হয়েছে। ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, গ্রীসের দক্ষিণ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় একটি ট্রাকের ভেতর থেকে ১৪৪ জন বাংলাদেশীসহ ২১১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে উত্তর মেসিডোনিয়ার পুলিশ। সোমবার মধ্যরাতে দেশটির পুলিশ গ্রীস সীমান্ত সংলগ্ন জেভজেলিজার রাস্তায় চলমান ওই ট্রাক থামিয়ে ১৪৪ জন বাংলাদেশী এবং ৬৭ জন পাকিস্তানী নাগরিককে আটক করেছে। এদের মধ্যে ৬৩ জন অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক বলে সংবাদ মাধ্যমগুলো পুলিশের বরাতে জানিয়েছে।

এদিকে, তুরস্কের পশ্চিম উপকূলে ইউরোপগামী একটি জাহাজে অভিযান চালিয়ে সোমবার বেশকিছু বাংলাদেশীসহ ২৭৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে তুরস্কের পুলিশ। এদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৫৯ জন শিশু রয়েছে। কতোজন বাংলাদেশী তা জানা সম্ভব না হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, আটককৃত অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশী ছাড়াও আফগানিস্তান, সিরিয়া, সোমালিয়া এবং ইরানের নাগরিকগণ রয়েছেন। ঢাকায় এই দুই ঘটনা সম্পর্কে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো মন্তব্য করেনি।

ঢাকায় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচারকারীরা ইউরোপে অবৈধ মানবপাচারের জন্য নানা পথ গ্রহণ করে। ওইসব সূত্র বলছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার বাংলাদেশী ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে আটক হয়েছেন।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এনজিও ব্র্যাকের অভিবাসন সংক্রান্ত ইউনিটের প্রধান শরীফুল হাসান বলেন, ইউরোপে যাবার সময় সাগর পথেই এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ১ হাজার ৪৬৫ জন বাংলাদেশীকে আটক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞগণ আশংকা করছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের অবৈধ অভিবাসন অনেকগুণে বেড়ে যাবে।