প্রবীণ সাংবাদিক দেবপ্রিয় বড়ুয়া (ডিপি বড়ুয়া) আর নেই

নিউজ ডেস্ক:    বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক দেবপ্রিয় বড়ুয়া (ডিপি বড়ুয়া) আর নেই। তিনি আজ ভোর সাড়ে ৫টায় রাজধানীর মগবাজারের বাসায় পরলোকগমন করেন।

প্রবীণ সাংবাদিক ডিপি বড়ুয়া দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে, নাতি নাতনি, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ডিপি বড়ুয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

ডিপি বড়ুয়ার ছেলে দীপ্ত বড়ুয়া বাসসকে জানান, ১৯৩০ সালে তিনি চট্টগ্রামের মহামনি পাহাড়তলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে মেট্রিক ও ১৯৪৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন এবং ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ওই সময়ে তিনি বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের কর্মধারার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৬১ সালে পাকিস্তান বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ মানসিক প্রতিবন্ধী কল্যাণ ও সমিতির চারজন প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে তিনি একজন। পরবর্তীতে তিনি একাধিকবার এই সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৫৮ সালে অধুনালুপ্ত ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজে রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। ওই বছরই তিনি ইস্ট পাকিস্তান ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে (বর্তমান শিল্প ভবন) যোগ দেন এবং সেখানে এক বছর কাজ করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৭৪ সালের ১ জানুয়ারি ডিপি বড়ুয়া বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় ব্যবস্থাপনা সম্পাদক (এমই) হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি বাসস-এ ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং এ বছরেই বাসস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক পদে নিয়োগ পান। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাসস’র এমডি’র দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৪ সালে বাসস’র এমই পদে নিয়োগ লাভের পর এ বছরেই তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে ভারত ও কুয়েত সফর করেন। তিনি বাসস’র এমই হিসেবে ১৯৭৪ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ৭০ মিনিটের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহন করেন।

তিনি অবসর গ্রহণের পর দৈনিক আজাদী পত্রিকায় ‘স্মৃতির পথ ধরে’ শিরোনামে কলাম লিখেন।

তার মরদেহ মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহার ও কমলাপুর ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে নিয়ে যাওয়া হবে। আজ বিকেলে আশুলিয়া বৌদ্ধ মন্দিরে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।