সাংবাদিক ও শিক্ষানুরাগী শফিকুল ইসলাম মিন্টুর ৫০তম জন্মবার্ষিকী

নিউজ ডেস্ক:  সাংবাদিক, শিক্ষানুরাগী, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শফিকুল ইসলাম মিন্টু ৫০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭০ সালে ৮জুলাই ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা সদরের পাটবাজারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। গৌরীপুরের তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম আরশেদ আলী বেপারী ও গৃহিণী মরহুমা সালেহা আক্তার খানমের ৬কন্যা ও ১পুত্র সন্তানের মাঝে তিনিই সর্বকনিষ্ট।

গৌরীপুর সরযূবালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণীতে প্রাথমিক বৃত্তি, ময়মনসিংহ মৃত্যুঞ্জয় স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণীতে জুনিয়র বৃত্তি ও এসএসসিতে স্টার মার্কসহ বৃত্তি প্রাপ্ত হন। আনন্দমোহন সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি সাংবাদিকতা, রাজনীতি, ক্রীড়া ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।

ছাত্রাবস্থায় লেখাপড়ার পাশাপাশি ১৯৮৬ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক একতা পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে একে একে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক আল আমিন, দৈনিক মুক্তকণ্ঠ, দৈনিক সমকাল ও ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাকের বাংলাদেশ, দৈনিক ঈষিকা ও দৈনিক পরিচয়ে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক স্বদেশ সংবাদ পত্রিকা ও অনলাইন ঢাকা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম ও উত্তরাধিকার ৭১ডট কমের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

গৌরীপুর থেকে প্রকাশিত অনলাইন পোর্টাল বাহাদুর ডট কমের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আশির দশকে সাংবাদিকতা শুরু থেকে একটানা ত্রিশ বছর তিনি মফস্বল সাংবাদিকতায় মেধা, সততা, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও অসা¤প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার নিরবচ্ছিন্ন চর্চা করে চলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে তিনি বারবার আপোসহীন ও অকুতোভয়। ১৯৯৮ সালে তিনি গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। এর পর একে একে আটবার তিনি সংগঠনটির নির্বাচিত হন। বর্তমানেও তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি গৌরীপুর উপজেলা শাখার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লি. গৌরীপুর এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি পিআইবি ও বিসিডিজেসি থেকে সাংবাদিকতার উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও সনদ লাভ করেছেন। ২০১৬ সালে গৌরীপুর প্রেসক্লাবের বর্ষসেরা সাংবাদিকতা পদক লাভ করেন। একই বছর তিনি সাংবাদিকতায় বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন এওয়ার্ড লাভ করেন।

তিনি একজন ক্রীড়া সংগঠকও। ১৯৮৪ সালে এলাকার ক্রীড়ামোদী তরুণ যুবকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন গৌরীপুরের স্বনামধন্য ক্রীড়া সংগঠন ‘ব্রাদার্স ইউনিয়ন’। সংগঠনটির টানা তিনবার সাধারণ সম্পাদক ও একবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ফুটবল ও ক্রিকেট তাঁর প্রিয় খেলা। এক সময় তিনি ক্রিকেট খেলতেন। খেলাধূলার গুনগত মান উন্নয়নের জন্য কাজও করেছেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উদ্ভূদ্ধ হয়ে ১৯৮৪ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে আসীন হন। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গৌরীপুর উপজেলা ও উত্তর ময়মনসিংহে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন এবং স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ট ভূমিকা রাখেন। সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সাথে মিশে থেকে স্থানীয় রাজনীতিতে অনেক অবদান রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতি ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিক্ষাবিদ। বর্তমানে গৌরীপুর তথা উত্তর ময়মনসিংহের সেরা সংগঠন (গৌরীপুরের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম) ’বাংলা মঞ্চ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর কার্যকরী কমিটির সদস্য, গৌরীপুর সংগীত নিকেতনের পরিচালক ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, গৌরীপুর উপজেলা শাখার সদস্য। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, গৌরীপুর উপজেলা শাখার জেষ্ঠ্য সহসভাপতি। জয় বাংলা ইয়থ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সোস্যাল ইউনিটি ফর নার্সিং (সান) এর উপদেষ্ঠা।

গৌরীপুরে গত ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তিনি বিশেষ ভ‚মিকা পালন করে আসছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলন ও সরকারের ভ‚মিকা প্রচারের একজন অগ্রগামী সৈনিক তিনি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি শফিকুল ইসলাম মিন্টু গৌরীপুরের শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও উজ্জল অবদান রেখেছেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ১৯৯৮ সালে পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ ও পরে বারহাট্টা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক হিসাবে চাকুরি করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থেকে শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।

২০১৫ সালে নিজে প্রতিষ্ঠা করেছেন গৌরীপুর পাবলিক কলেজ ও প্রতিভা মডেল স্কুল। বর্তমানে তিনি কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও প্রতিভা মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তিনি। গৌরীপুর মহিলা (অনার্স) কলেজ গভর্নিং বডির নির্বাচিত সদস্য, গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির টানা দুইবার নির্বাচিত সদস্য, বোরহান উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টানা ২বার নির্বাচিত সভাপতি, গৌরীপুর ইসলামাবাদ সিনিয়ম মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ও আজীবন দাতা সদস্য। শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য পেয়েছেন ‘সাংবাদিক সুরেশ কৈরী পদক’।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনতৈনিক, সামাজিক, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সকলের কাছে তিনি বিশেষ গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ। শফিকুল ইসলাম মিন্টু বসবাস করছেন গৌরীপুর পৌর শহরের পাট-বাজার এলাকায়। তাঁর স্ত্রী সায়িদা আক্তার জাহান একজন গৃহিনী। তিনি ২কন্যা সন্তানের জনক।