করোনা পরীক্ষার ফি বাতিলের দাবি ২০ দলীয় জোটের

নিউজ ডেস্ক:   করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ফি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। রোববার দুপুরে জোটের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতারা এই দাবি জানান। এ ছাড়া বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ও বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানান জোটের নেতারা।

সোমবার বেলা ১১টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ও সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

বৈঠক সম্পর্কে শরীক দলের এক নেতা জানান, বৈঠকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। করোনাভাইরাস, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুরাবস্থা, কৃষকদের ঋণ প্রণোদনা, শহর ছেড়ে গ্রামে ফেরা মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পাটকল বন্ধ ও শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া, নতুন অর্থবছরের উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিও নেতাদের আলাপে উঠে এসেছে। এ ছাড়া বিএসএফ কর্তৃক ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় সরকার চুপ থাকায় প্রতিবাদ জানানো হয়।

জানা যায়, বৈঠকে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন আইনকে কালো আইন হিসেবে আখ্যা দেন নেতারা। করোনা মহামারির মধ্যে এ ধরনের আইন করার বিষয়টিকে দুরভিসন্ধিমূলক বলে বৈঠকে মত দেন তারা।

কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার জন্য সরকারি প্রণোদনার টাকা পেতে নানা ধরনের শর্ত দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জোটের নেতারা আলোচনা করেছেন। তারা বিনাশর্তে কৃষকদের ঋণ দেওয়ার দাবি জানান। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার সাক্ষাতের বিষয় তুলে ধরে জোটের একজন নেতা বৈঠকে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতা যদি নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন তাহলে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতা হিসেবে আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারব না কেন? এ সময় শরিক দলের আরেক নেতা প্রস্তাব করেন- ঢালাওভাবে সব নেতার সাক্ষাতের সুযোগ না হলেও অন্তত জোটের সিনিয়র কয়েকজন নেতা গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। জবাবে জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটা হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি দলীয়ভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

জোটের কয়েকজনের মধ্যে অসন্তোষের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বৈঠকে বলেন, যাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে আর কোনো ক্ষোভ নেই।

জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি নূর হোসেন কাসেমী, এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের প্রমুখ। এ ছাড়া এলডিপির একাংশের চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব) অলি আহমদ অল্প সময়ের জন্য বৈঠকে উপস্থিত হলেও তিনি কোনো কথা বলেননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।