কাবা শরিফে ও কালো পাথরে চুমু খেতে বা স্পর্শ করতে পারবেন না

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এবারের সীমিত পরিসরে হজের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি জারি করেছে সৌদি আরবের জাতীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বিধি অনুযায়ী, হজ পালনকারীরা কাবা শরিফে ও কালো পাথরে চুমু খেতে বা স্পর্শ করতে পারবেন না এবং শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছুড়ে মারার জন্য আগে থেকে জীবানুক্ত প্যাকেটজাত পাথর ব্যবহার করতে হবে।

বর্হিবিশ্বের কেউ এবারের হজে অংশ নিতে পারবেন না। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার (৬ জুলাই, ১৫ জিলকদ) থেকে আগ্রহী হজযাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে। চলবে ১০ জুলাই (১৯ জিলকদ) পর্যন্ত।

এবারের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১৯ জুলাই (২৮ জিলকদ) থেকে। চলবে ২ আগস্ট (১৩ জিলহজ) পর্যন্ত।

সোমবার (৬ জুলাই) সৌদি আরবের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হজে অংশ নেওয়া মুসল্লির সংখ্যা এক থেকে দশ হাজারের মধ্যে সীমিত থাকবে। এখনও সংখ্যা চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে এবারের হজে অংশ নেওয়া হজযাত্রীদের নতুন কিছু নিয়ম মেনে হজপালন করতে হবে।

এসব নিয়মের অন্যতম হলো- তাওয়াফের সময় পবিত্র কাবা স্পর্শ করা যাবে না। কালো পাথর হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া যাবে না। অবশ্য হাজরে আসওয়াদে চুমু দিতে না পারলে ওই পাথরের দিকেত ইশারা করে তাওয়ায় শুরু করার বিধান রয়েছে। আর কাবার স্পর্শ করা হজের কোনো মৌলিক বিধান নয়। তাওয়াফ করা হজের বিধানের অন্যতম।

নামাজের সময় এমনকি কাবা শরিফ তাওয়াফের সময়ও দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে হাজিদের। এ নিয়ম মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতেও মানতে হবে। এই সময়ে হজযাত্রী ও আয়োজকদের প্রত্যেকের জন্য সর্বদা মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ইহরাম অবস্থায় মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মাস্ক পরার বিষয়ে আলেমরা জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছেন।

অনুমতি ছাড়া কেউ মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে যেতে পারবেন না। এসব স্থানে যাওয়া-আসা নিয়ন্ত্রণ করবে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এসব স্থানে যাওয়ার ব্যবস্থা ও সময় পরে জানানো হবে।

জামারাতে পাথর মারার সময় হজযাত্রীদের জীবাণুমুক্ত পাথর সরবরাহ করা হবে, সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। পাথর নিক্ষেপের সময় কোনো দলে পঞ্চাশজনের বেশি লোক থাকতে পারবে না।

কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। কোনো হজযাত্রী নিজে কোরবানির পশু ক্রয় কিংবা জবাই করতে পারবেন না।

হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত পরিবহন শ্রমিক এবং খাবার সরবরাহকারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের সমাবেশ ও সভা। বার বার হাত ধোয়ার পাশাপাশি হাঁচি-কাশির সময় শালীনতা করতে হবে।

তাওয়াফের সময় আলাদা আলাদা লাইন থাকবে সেই লাইন অনুসরণ করতে হবে। সাফা-মারওয়ায় সায়ীর সময়ও একই নিয়ম মানতে হবে।

মসজিদে হারামে কোনো ধরনের খাবারের অনুমতি নেই। ওয়াটার কুলার ও জমজমের পানি সরবরাহ বন্ধ থাকবে। জমজমের পানি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

হজযাত্রী ও হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়মতি পরীক্ষা করা হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁ, চলাচলের পথ ও যানবাহনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

কারো মাঝে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানো হবে। কোনো ধরনের পত্রিকা বা প্রচারপত্র বিলি-বিতরণ করা যাবে না। এটিএম বুথ, টাচস্ক্রিন গাইড এবং ভেন্ডিং মেশিনের পাশে হ্যান্ডস্যানিটাইজার রাখতে হবে। হজযাত্রীদের লাগেজ জীবাণুমুক্ত এবং স্যানিটাইজ করতে হবে।