অন্তঃসত্ত্বা চিকিৎসক নার্সরা ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন

 

মো. নজরুল ইসলাম : করোনার ঝুঁকি এড়াতে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কর্মস্থলে যাওয়া থেকে বিরত থাকার কথা জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপণে বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। এমনকি হাসপাতালেও রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের। প্রসূতি মায়েদের এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তবে এ ধরনের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

টানা দুই মাসের বেশি সময় অঘোষিত লকডাউন শেষে নতুন করে করা হচ্ছে এলাকা ভিত্তিক লকডাউন। তবে যথারীতি খোলা থাকছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। এ সময় অফিসে ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে সরকারি প্রজ্ঞাপনে। এতে সুনির্দিষ্টভাবে সন্তানসম্ভবা নারীদের কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়।

কোভিড হাসপাতালগুলোতেও মানা হচ্ছে না এ নিয়ম। মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আবেদনেও মিলছে না সাড়া। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন প্রসূতি চিকিৎসকরা।

অন্তঃসত্ত্বা এক চিকিৎসক বলেন, আমি সন্তানসম্ভাবা, আমি পানি খেতে পারছি না। ওয়াশরুমে যেতে পারছি না। বমি আসছে। এগুলো পরে আমার শ্বাস আরও ঘন হয়ে আসছে। এগুলো তো নরমাল ডিউটি না। আমাদের ইনফেকশনের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। একবার ইনফেকশন হয়ে গেলে হয়তো আমাদের অন্যদের মতো মাইল্ড ইনফেকশন হবে সেটাও না। অলরেডি ৩ বার জমা দেয়া হয়েছে অ্যাপ্লিকেশন।

করোনা রোগীদের সরাসরি সংস্পর্শে যাওয়ায় নার্সদের ঝুঁকি বেশি। তারপরও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা

অন্তঃসত্ত্বা এক নার্স বলেন, আমরা ডিউটি করছি। আমি প্রেগনেন্ট, এখন ডিউটি করাটা আমার জন্য রিস্ক।

ভুক্তভোগী এক নার্সের স্বামী জানান, সে যদি রেস্টে থাকতে পারতো প্রেগনেন্টকালীন তাহলে তার অ্যাবোরশন হতো না। কিন্তু দেশে করোনা পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ডিউটি তো বাধ্যতামূলক। বিধায় এ দুশ্চিন্তায় তার অ্যাবোরশন হয়ে গেছে।

এমন সংবেদনশীল অবস্থায় কোভিড হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের কাজ করা উচিত নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী জানান, প্রেগনেন্সি অবশ্যই একটা সংবেদনশীল অবস্থা। যারা কোভডি হাসপাতালে কাজ করেন তারা কিন্তু খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে করে।

অন্তঃসত্ত্বা স্বাস্থ্যকর্মীকে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. আমিনুল হাসান জানান, যারা প্রেগনেন্ট তারা ডিরেক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে। যদি তারপরও সম্ভব না হয় আমাদের জানাবে। নির্দেশনা তো দেয়াই আছে সবাইকে। কষ্ট হচ্ছে তারপরও ম্যানেজমেন্ট তাকে রিলিজ দিচ্ছে না, এ রকম কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেও নাই। আসলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।

এখন পর্যন্ত দেশে এক হাজারেরও বেশি চিকিৎসক এবং প্রায় এক হাজার নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।