ভারত কৌশলগত ভুল ধারণা এড়িয়ে চলুক: চীন

নিউজ ডেস্ক:   সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই লাদাখ সফর করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নাম না করেই চীনকে দিয়েছেন হুঁশিয়ারি। এরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন।

চীন সম্পর্কে দিল্লির কৌশলগত ভুল ধারণা এড়িয়ে চলা উচিত বলে জানিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের

একইসঙ্গে চীন জানিয়েছে, সেনা ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানো উচিত। তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এমন বিবৃতি অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ভারত।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান লাদাখে মোদির সফর প্রসঙ্গে বলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর সীমান্তের পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

শুক্রবার লাদাখ সফর করেন মোদি। এসময় নাম না করে চীনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদের দিন শেষ। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, আধিপত্যবাদীরা হয় পরাজিত হয়েছে অথবা সেই মনোভাব থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে।’

গত ১৫ জুন ভারত-চীন সীমান্তে সংঘাতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের দাবি উঠেছে। ইতোমধ্যেই ৫৯ চীনা অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারতে রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। এ প্রসঙ্গে ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ‘বেশ কয়েকজন ভারতীয় রাজনীতিবিদের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক।’

তিনি বলেন, ‘ভারত-চীন সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি উভয় দেশের জন্যই জরুরি ও তা বজায় রাখার আহ্বান জানাই। উভয় দেশের স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই ভারত-চীনের কাজ করা উচিত।’

মোদি সরকারের চীনা অ্যাপে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ‘ভারত-চীন সমঝোতায় দু’দেশের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। কৃত্রিমভাবে তার উপর বাধা সৃষ্টি করলে তা শুধু বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধি ভঙ্গই করবে না, একইসঙ্গে ভারতীয় স্বার্থের পক্ষেও ক্ষতিকারক হবে। ব্যবসায়িক আইনি বৈধ অধিকার রক্ষায় চীন উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

চুক্তি অনুযায়ী দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথাও বলেছেন ঝাও লিজিয়ান। তিনি বলেন, সেনা ও কূটনীতিক আলোচনার মাধ্যমেই দু’দেশের রাষ্ট্রনেতার সাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে সমস্যা দূর হতে পারে। এজন্য ভার-চীন উভয়কেই কার্যকরী পদক্ষেপ করতে হবে।