করোনায় আরো এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মৃত্যু

সুমন দত্ত: করোনায় আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের আরেকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কে এম মুন্তাকিম চৌধুরি। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ছিলেন। এছাড়া কর্মজীবনে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও শিকদার মেডিকেল কলেজেও অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশিষ্ট এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেশে হাতে গোনা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম। চিকিৎসায় তিনি সার্জারির চাইতে ওষুধ দিয়ে নিরাময়ে জোর দিতেন বেশি। পুরান ঢাকার লালবাগ, কসাইটুলী, নাজিমুদ্দিন রোডের বাসিন্দারা ও কেরানীগঞ্জের বেশিরভাগ লোকই তার কাছে থেকে চিকিৎসা সেবা নিতেন। আদি ঢাকার লোকের সঙ্গে তার পারিবারিক বন্ধন হওয়ায় সেখানকার একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক হয়ে উঠেছিলেন ডা. কে এম মুন্তাকিম চৌধুরি। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছে ৪ পুত্র ও স্ত্রী। পুত্রদের মধ্যে দুজন চিকিৎসক। অধ্যাপনা থেকে অবসর নেয়ার পর নিজের মায়ের নামে ঢাকার বেচারাম দেউরিতে তিনি একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন। যার নাম কেজি হাসপাতাল।

পারিবারিক সূত্রে মরহুমের বড় ছেলে ডা. লাকী জানান তার আব্বা নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে কয়েকদিন আগে রাসমনো হাসপাতালে ভর্তি হোন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ১১ টায় তার মৃত্যু হয়। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। এ খবর নিশ্চিত করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস’ সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেস্পন্সিবিলিটিজের (এফডিএসআর) যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ডা. কেএম মুন্তাকিম চৌধুরী ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।’ ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী জানান, এ নিয়ে করোনায় দেশে এখন পর্যন্ত ৬০ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

ডা. কে এম মুন্তাকিম চৌধুরির মৃত্যুতে শোক ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন চিকিৎসকদের একাধিক সংগঠন ও তার প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/এসডি