নীল নদের পানি ব্যবহারের বিষয়ে ঐকমত্যে

নিউজ ডেস্ক:   মিসর, ইথিওপিয়া আর সুদান নীল নদের পানি ব্যবহারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশ তিনটির মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

নীল নদের পানি নিয়ে দেশ তিনটির মধ্যে বিরোধে মধ্যস্থতাকারী আফ্রিকান ইউনিয়নের অনলাইন বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ‘ব্লু নাইল ড্যাম’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশগুলোর মধ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা বিরোধের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।

ইথিওপিয়া ও মিসরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নীলের পানি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ সুদানও। মিসরের চাহিদা রক্ষা করেও ইথিওপিয়া কী করে নীলের পানি দিয়ে নিজেদের দেয়া বাঁধের জলাশয়ে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে এ নিয়ে একটা চুক্তির অভাব বোধ করছিল।

ইথিওপিয়ার পানিসম্পদমন্ত্রী সেলেশে বেকেলে বলেন, তিন দেশের নেতাদের সঙ্গে আফ্রিকান ইউনিয়নের সভাপতি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোশার অনলাইন বৈঠকের একদিন পর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

ইথিওপিয়া বলেছে, এই মেগাপ্রকল্প তাদের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। এই বাঁধটির মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এদিকে নীল নদের পানির ওপর ৯০ শতাংশের বেশি নির্ভরশীল দেশ মিসর এরই মধ্যে উচ্চ জলচাপের মুখোমুখি, যা প্রায় ১০ কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিপর্যয়কর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নীল নদের ওপর নির্ভরশীল আরেকটি দেশ সুদানও ইথিওপিয়া ও মিসরের বিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শুক্রবার দক্ষিণ আপ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোশার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনফারেন্সের পর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি বলেছেন, সব পক্ষের মিরিত আলোচনার পর আশা করি. কোনো পক্ষই এমন কিছু করবে না, যা অন্যায্য মনে হতে পারে।

সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামডকও নীল নদীর অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির প্রযুক্তিগত খাতগুলো খতিয়ে দেখার ব্যাপারে তিন দেশই কাজ শুরু করবে।