বোরোর ভরা মৌসুমে দাম কমেনি, উল্টো বেড়ছে

নিউজ ডেস্ক:    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বোরোর ভরা মৌসুমে নতুন ধান সবার ঘরে ঘরে উঠছে। তাই চালের দাম কমবে, আশা করেছিলেন সাধারণ মানুষ। সেই ধান ঘরে ওঠার পর চাল হয়ে এখন বাজারেও এসেছে। কিন্তু দাম কমেনি, উল্টো বেড়ে গেছে।

তাড়াশ পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা চালে দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা করে!

অভিযোগ উঠেছে, এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার পরও এক শ্রেণির মিল মালিক কারসাজি করে সরবরাহ কমিয়ে চালের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছেন। কমতে থাকা চালের দাম হঠাৎ আবারও বেড়ে যাওয়ার জন্য উত্তরাঞ্চলের মিল ও মোকাম মালিকদের দায়ী করছেন পাইকার ব্যবসায়ীরা।

মিল মালিকরা বলছেন, বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহে সরকারের দাম বেঁধে দেওয়ার কারণে ধানের দাম বেড়েছে। আর ধানের দাম বাড়ায় চালের দামও বেড়েছে।

তাড়াশ পৌর শহরে বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহে মোটা ও চিকন এবং আতপ ও সিদ্ধ সব ধরনের চালের দামই বেড়েছে। ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা, সিদ্ধ মিনিকেট ও সিদ্ধ পাইজামও একই হারে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় এবং সিদ্ধ নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে। একইভাবে বেড়েছে অন্যান্য চালের দামও।

এই চাহিদাকে পুঁজি করে রাতারাতি চালের দাম বাড়িয়ে দেন মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তখন। মাঝে কিছুদিন চালের দাম খানিকটা কমে এলেও জুনের মাঝামাঝিতে হঠাৎ চালের দাম ফের বাড়তে থাকে।

তাড়াশ বাজারে আড়তদার ও পাইকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনাজপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মিল ও মোকাম মালিকরা জোটবদ্ধ হয়ে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে সেই পুরোনো কৌশলে হঠাৎ করে চাল সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দেন তারা।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ইয়াসিন আলী জানান, বড় বড় মিল মালিকরা ধান কিনে তা চাল করে কারসাজির মাধ্যমে বেশি দামে বাজারজাত করে। তাই খুচরা বাজারে চাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে কৃষকের চেয়ে মিল মালিকরা বেশি লাভ হচ্ছে।