২০ সেকেন্ডের অলসতা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে: কাদের

নিউজ ডেস্ক:    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনার উচ্চঝুঁকি বিবেচনায় সরকার নতুন করে কিছু জেলা ও সিটি করপোরেশনের সুনির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এসব এলাকার জনসাধারণকে কঠোরভাবে সরকারি নির্দেশনা মেনে ও ধৈর্য্যরে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

সোমবার তার সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, করোনার এই দুর্যোগে বাংলাদেশে সফররত চীনা বিশেষজ্ঞ টিম সরকারের নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেছেন। তারা নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করার পাশাপাশি জনগণের সচেতনতার অভাবের কথাও বলেছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকার তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিয়েছে। জনগণকেও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, এক সেকেন্ডের অবহেলা ও হাত ধোয়ার ২০ সেকেন্ডের অলসতা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, অনেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাওয়া প্রেসক্রিপশন ফলো করে ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রয়োজনে হটলাইনে যোগাযোগ করুন, টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করুন। অযথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া চিকিৎসা ফলো করবেন না। এতে ঝুঁকিতে পড়বেন। একজনের সমস্যা অন্যের সঙ্গে নাও মিলতে পারে।

‘বিএনপিকে ত্রাণকাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোথায় কে বাধা দিচ্ছে- তা স্পষ্ট করুন। তথ্য প্রমাণ দিন, অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  আমরা নিজেরাও খোঁজ-খবর নিচ্ছি। মানবিক কাজে বাধা প্রদান আওয়ামী লীগের নীতি নয়।

তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে সরকার জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে আইসিইউসহ জরুরি সেবা সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও টেস্টিং ক্যাপাসিটি ও চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬০ এর অধিক কেন্দ্রে টেস্ট করা হচ্ছে, প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে। সরকারের পাশাপাশি এই সংকটকালে বেসরকারি উদ্যোগও যোগ করতে পারে নতুন মাত্রা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, যত প্রস্তুতিই নেওয়া হোক না কেন, বিশ্বব্যাপী আজ একটি অভিন্ন কথাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন। সেটি হলো নিজের সুরক্ষা। করোনা প্রতিরোধের সবচেয়ে সেরা কৌশল হিসেবে নিজেকে সচেতন রাখতে হবে, সুরক্ষা দিতে হবে। তাই আসুন, কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে আমরা সুরক্ষার প্রাচীর গড়ে তুলি, নির্মাণ করি সচেতনতার দুর্গ। করোনার লক্ষণ দেখা দিলে গোপন না করে নিকটস্থ কেন্দ্রে পরীক্ষা করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।