প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান রাষ্ট্রপতির

নিউজ ডেস্ক:   রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে সততা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও শৃংখলার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করার আহবান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান। ২৩ জুন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এ দিবস পালিত হবে।

‘আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস ২০২০ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে ২০০৩ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারের পালিত হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ১৭ মার্চ ২০২০ হতে পরবর্তী এক বছরকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। জাতির পিতা বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জনস্বার্থে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বছর আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘এ্যাকশন টু-ডে, ইমপেক্ট টুমরো : ইনোভেটিং এন্ড ট্রান্সফরর্মিং পাবলিক সার্ভিসেস এন্ড ইনস্টিটিউট টু রিয়েলাইজ দ্যা সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল’। ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এসডিজি সামিটে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি’র ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতিসংঘ থেকে দশ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। তারই আলোকে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্চারীদের মধ্যে ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠেীর মানসিকতা পরিহার করে ক্রমান্বয়ে জনগণের সেবকে রূপান্তরের বিষয়টি লক্ষণীয়। সরকারি সেবা নাগরিকদের সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে তারা নিত্য নতুন বিষয় উদ্ভাবন করছেন। জনসেবা প্রদানে অনন্য ও উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ২০১৬ সাল হতে ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রদান করে আসছে।

আবদুল হামিদ বলেন, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উদ্যোগ ও সেবা প্রদানের মানসিকতা খুবই প্রশংসনীয়। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ত্রাণ বিতরণ, প্রয়োজনে ঘরে-ঘরে ত্রাণ পোঁছে দেয়ার কাজও তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে করছেন। জনসাধারণ যাতে এ সময় ঘর থেকে বের না হয় সেজন্য মোবাইল বাজার, স্থানীয় পর্যায়ে ই-কমার্স প্ল্যাটফরম তৈরীর মতো উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও সংক্রমণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন।

তিনি বলেন, ‘এসডিজি অর্জনে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে সহজে জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের যে ধারা অব্যাহত রয়েছে তা আমাদের এসডিজি অর্জনে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’