চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা উপমহাদেশের অশনিসংকেত

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন:   করোনা ভাইরাস এখন সারাবিশ্বের বড় থেকে ছোট, শক্তিশালী থেকে দুর্বল দেশগুলোকে কাবু করে ফেলেছে। সারাবিশ্বের অর্থনীতির মুখে আঘাত হেনেছে। উপমহাদেশের উত্তর সীমান্তে, হিমালয়ের পর্বতরাজির সীমান্ত বরাবর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু বর্তমানে চীন-ভারত সীমান্ত অঞ্চল লাদ্দাকের এলএসি (লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল) বরাবর দুপক্ষই সেনাবাহিনীসহ সমরাস্ত্র জমায়েত করেছে।

১৯৬২ সালে চীন ভারতের তথা কাশ্মীর অঞ্চলের লাদ্দাকের একাংশ আকসাই চীন দখল করে নিয়েছিল। এখনো চীনের দখলেই রয়েছে আকসাই চীন। সামরিক গুরুত্বপূর্ণ ভূকৌশলগত কারণে এ অঞ্চল ভারতের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের জন্য অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে চীনের নীতিনির্ধারকদের বিবেচিত। চীনের তিব্বত অঞ্চলের সঙ্গে পাকিস্তানের গিলগিত-বাল্টিস্তান এবং কারাকোরাম হাইওয়ে যা এখন চীনের বেল্টরোড উদ্যোগের শিরদাঁড়া বলে বিবেচিত, যোগাযোগের পথ। স্মরণযোগ্য যে, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের গোয়াদর বন্দর চীনের বেল্টরোড প্রকল্পের আওতায় তৈরি এবং এখান থেকে কারাকোরাম হাইওয়ের মাধ্যমে মধ্যচীনের প্রধান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হয়েছে।

১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীন বর্তমানের অরুণাচল, তৎকালীন নেফা অঞ্চলের অনেক স্থান দখল করেছিল, যার মধ্যে ছিল তোয়াং অঞ্চল। এমনকি আসাম পর্যন্ত চীন সৈনিকদের আগমনের এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আসামের উত্তরের কিছু অংশে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ওই অঞ্চলে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ব্যাপক পর্যুদস্ত হওয়ার পরও চীন যুদ্ধের পর দখলকৃত অঞ্চল ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু উত্তর-পশ্চিমে লাদ্দাকের সম্পূর্ণ আকসাই চীন, প্যানসন্স লেকের বৃহদাংশসহ দখল করে এবং দুদেশের যুদ্ধ বিরতির পর লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি স্থাপনা করা হয়। কিন্তু চীন লাদ্দাকের এবং অরুণাচলের বৃহদাংশের দাবি ছাড়েনি।

কারণ চীনের মতে, এসব অঞ্চল তিব্বতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল যা ব্রিটিশ-ভারতের শাসকরা অন্যায়ভাবে তিনবার সীমান্তরেখা পরিবর্তন করেছিল। ১৯৪৭ সালের পর ভারত আকসাই চীনের অবস্থানের পরিবর্তন না করলেও চীন সম্পূর্ণ আকসাই চীন তাদের ম্যাপে দেখায় ১৯৪৮ সালের পর থেকে এবং তিব্বতের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমে সিনজিয়াং পর্যন্ত ১২০০ কিমি. রাস্তা তৈরি করে, যদিও বেশিরভাগ রাস্তাই মাটির হলেও এখন পাকা হয়েছে। এ রাস্তাটি প্রায় ১৪০০০ ফুট উচ্চতায়। এই রাস্তা ১৯৫৯ সালে সম্পন্ন হওয়ার পর চীন তার ম্যাপে দেখায়। এতদিন ভারত এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল। চীন সম্পূর্ণ প্যানসন্স লেক দাবি করে ১৯৬২ সালে এই প্রেক্ষাপটে ভারত-চীন যুদ্ধ হলে চীন সম্পূর্ণ আকসাই চীন দখল করে নেয়। আজও সেই অবস্থায়ই রয়েছে। অবশ্য এই অঞ্চলের বিবাদের ইতিহাস পুরনো এবং জটিল।

শুধু পাঠকদের সুবিধার্থে যৎসামান্য উল্লেখ করা হলো মাত্র। উল্লেখ্য, যে অঞ্চল নিয়ে এই আলোচনা এখানে জনবসতি নেই বললেই চলে এবং পাহাড়ি মরু অঞ্চল তবে বহু নদীর উৎপত্তি। শীত মৌসুমে বরফঢাকা থাকে।

এখানে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ১৯৬২ সালে ভারতের বিপর্যয়ের পর পাকিস্তান সরকার চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরই আঙ্গিকে গিরগিত-বাল্টিস্তান যা কোনো সময় বৃহত্তর কাশ্মীরের অংশ ছিল এবং ১৯৪৭ সালে অনেকাংশ পাকিস্তানের দখলে আসে। যা এতদিন পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল বলে পরিচিত ছিল। এরই একাংশ সাখসগাম উপত্যকা প্রায় ২৭০০ বর্গমিটার পর্বতরাজির মাঝে উপত্যকা কারাকোরাম পর্বতমালার উত্তরে। চীনকে হস্তান্তর করা হয়। ভারত ওই সময়েই দারুণ বিরোধিতা করে এবং ওই অঞ্চল বিরাজমান কাশ্মীরের অঞ্চল বলে দাবি করে আসছে। কাজেই আকসাই চীনের সঙ্গে সাখসগাম উপত্যকাও সামরিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কারণে চীন, ভারত এমনকি পাকিস্তানের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

ভৌগোলিক বিস্তার এবং বিচারে হয়তো এ অঞ্চল খুব আলোচনায় উঠে আসে না। কিন্তু প্রশ্ন থাকে যে, গড়পড়তা ১৪০০০ ফুটের ওপরের হিমালয়ের এ অঞ্চল নিয়ে তিন দেশের মধ্যে এমন টানাপড়েন শুধুই কি মধ্যযুগীয় আধিপত্য বিস্তার বা ভূমি দখলতার জন্য? ঠিক তা নয়। এ অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়ে যখন চীন পুরো তিব্বত আর সিনজিয়াং পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং ১৯৪৮ সালের পর নতুন চীন প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কমিউনিস্ট চীন তিব্বতসহ পুরো অঞ্চলকে শক্তিশালী করে তুলতে এবং ভূকৌশলগত অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে প্রয়াস নিতে থাকে। আগেই বলেছি, এই অঞ্চল বিশেষ করে আকসাই চীন নিয়ে ভারত খুব একটা অস্বস্তিতে ছিল না ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত।

১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ এবং চীনের আকসাই চীন দখল উপমহাদেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ভূকৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে আসে। যেখানে ত্রিমুখী টানাপড়েন অব্যাহত চীন-ভারত-পাকিস্তান। বর্তমানে এই অঞ্চল চীন এবং পাকিস্তানের জন্য এক ধরনের রক্ত সঞ্চালনের পথ। পাকিস্তানের গিলগিত-বাল্টিস্তানের কারাকোরাম পর্বতরাজির কোলঘেঁষে, ১৯৬৬ সালে শুরু হয়ে ১৯৭৯ সালে শেষ হয়। তৈরি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম পথ কারাকোরাম হাইওয়ে যা পাঞ্জাবের হাসান আবদাল থেকে শুরু হয়ে ১৩০০ কিমি. পাড়ি দিয়ে খুনরাহো হয়ে চীনের ন্যাশনাল হাইওয়ে ৩১৪-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এরই সঙ্গে যুক্ত সিনজিয়াং তিব্বত হাইওয়ে যা আকসাই চীন অতিক্রম করে। কারাকোরাম হাইওয়ে চীনের সিনজিয়াং প্রদেশের উইগুড় অঞ্চলকেও যুক্ত করেছে।

আগেই বলেছি, এই কারাকোরাম হাইওয়ে ঘিরে চীন-পাকিস্তানের প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক করিডর গড়ে উঠেছে, যে প্রকল্পে রয়েছে গোয়াদের থেকে তেল-গ্যাস পাইপলাইন এবং সিনজিয়াং পর্যন্ত রেলওয়ে স্থাপনা। এই মহাসড়কের গড়পড়তা উচ্চতা প্রায় ১৫৫০০ ফুট। বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম পাকা রাস্তা। যেমন বলেছি, এর সঙ্গে সিনজিয়াংয়ের যুক্ত হয়েছে ২৩৪২ কিমি. তিব্বত-সিনজিয়াং হাইওয়ে ২১৯। এই হাইওয়ে ঘিরেই আকসাই চীনসহ এ অঞ্চলের ভূকৌশলগত গুরুত্ব আর ত্রিমুখী শীতল যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে এই হাইওয়ে ঘিরে উচ্চ ভূমিগুলো শারীরিকভাবে দখলে রাখা। চীন সে সুযোগ ভারতকে দিতে চাইবে না। ভারতের লক্ষ্য সব বিতর্কিত কথিত ভারতীয় অঞ্চল ফিরে পাওয়া। এরই আঙ্গিকে ভারতের তীর ধারা বাতিল, লাদ্দাককে আলাদা করা এবং সিয়াচিন গ্লেসিয়ার দখলে রাখার প্রয়াসে ১৮০০০ ফুট উচ্চতায় ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি অবস্থানে। দুপক্ষে প্রাণহানি হচ্ছে গোলাগুলিতে নয় বরং চরম ঠাণ্ডাজনিত কারণে।

চীনের জন্য সাখসগাম উপত্যকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে তিনটি সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কে-৩, কে-৪ এবং কে-৫ কারাকোরাম গিরিপথ এবং চীনের ভূকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই অর্থনৈতিক ও ভূকৌশলগত কারণে এই অঞ্চল চীনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে ১৯৬২ সালের পর থেকেই আকসাই চীন অঞ্চলে চীন সৈন্য সংখ্যা মোতায়েন রাখতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। সীমান্তরেখা বরাবর রাস্তা নির্মাণ করেছে ভারতের বিরোধিতা সত্ত্বেও। চীন-ভারত সীমান্ত বরাবর অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এ নিয়ে কিছু কিছু জায়গায় চীন-ভারত দ্বন্দ্বও হয়েছে। ২০১৭ সালে ডোকলাম নামের জায়গায় দুপক্ষ থেকেই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

যাহোক বর্তমানের উত্তেজনার কারণ চীনের তরফ থেকে বলা হয় যে, ২০১৩ সালে চীনারা একটি সেনাক্যাম্প স্থাপন করে রাকিনুলাবলে অঞ্চলে যা একেবারে লাইন অব কন্ট্রোলের কাছাকাছি ভারতের অঞ্চল দৌলতবেগ ওস্তির ৩০ কিমি. উত্তরে। এরই জের ধরে ভারতীয়রা সেনাক্যাম্প তৈরি করে। তাই ২০০৮ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনী অস্থায়ী রানওয়ে তৈরি করে ট্রান্সপোর্ট উড়োজাহাজ নামানোর পর। এর পর থেকে ওই অঞ্চলে প্রায় ১৭০০০ ফুট ওপরে ভারত এয়ারবেসসহ এক ব্রিগেড সৈনিক মোতায়েন করেছে বলে চীনের অভিযোগ। তা ছাড়া দৌলতবেগ ওস্তি বিমান ও সেনাঘাঁটির প্রায় ২০০ কিমি. রোড তৈরি নিয়ে চীনের দারুণ উদ্বেগ।

দৌলতবেগ ওস্তির ভারতীয় এই শক্ত অবস্থান তৈরি করার পেছনে পাকিস্তান এবং চীনের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এখান থেকে ভারত যে কোনো সময় কারাকোরাম হাইওয়েতে হামলা চালাতে সক্ষম হবে। সীমান্তরেখার এত কাছাকাছি ভারতের এমন সামরিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে চীন আকসাই চীনসহ সীমান্তের বহু জায়গায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। গোলাগুলি না হলেও বহু জায়গায় হাতাহাতি, এমনকি দুপক্ষেই ইটপাটকেল নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটেছে।

স্মরণযোগ্য যে, ১৯৬২ সালে ভারত সামরিক শক্তিতে চীনের তুলনায় যে জায়গায় ছিল সেখান থেকে বহুগুণ শক্তি সঞ্চয় করেছে। ভারত এখন চীনের মতো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। তথাপি সামরিক শক্তির দিক থেকে সমকক্ষ নয়। চীন তার প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র নিজেরাই প্রস্তুত করে। অপরদিকে ভারত অনেকটাই বিদেশনির্ভরশীল। কাজেই সামরিক শক্তির দিক থেকে ভারত চীনের সমকক্ষ না হলেও ১৯৬২ সালের মতো নয়। এ কারণেই ভারতের উগ্রপন্থি সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১৯৬২-এর প্রতিশোধ নেওয়ার এখনই সময়।

ভারত-চীনের বর্তমানের অবস্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু মিত্র রাষ্ট্রের উসকানি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পক্ষে থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে চীন কর্তৃক করোনা ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগে ভারতের সমর্থন চাইলেও ভারত এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের জন্য সরাসরি চীনকে দায়ী করেনি। হালেই ভারত যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি সামরিক লজিস্টিক সাপোর্ট চুক্তি সই করেছে।

মিউচুয়াল লজিস্টিক সাপোর্ট অ্যাগ্রিমেন্ট নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বিমান ও নৌবাহিনী ভারতের বেস ব্যবহার এবং নৌঘাঁটি বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। অনুরূপভাবে ভারতও প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়ার নৌঘাঁটি থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট গ্রহণ করতে পারবে। অবশ্য এই চুক্তি যে ওই অঞ্চলে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে তাতে কারও সন্দেহ নেই। অস্ট্রেলিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চীনকে ভাইরাস ছড়ানোর দায়ে দায়ী করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় চীন মাওয়ের থিওরি বাদ দেয়নি। মাও সেতুং ১৯৫৯ সালে তিব্বত চীনের অন্তর্ভুক্তির পর বলেছিল, তিব্বত চীনের হাতের তালুর মতো, এর পাঁচটি আঙুল যথাক্রমে লাদ্দাক, সিকিম, নেপাল, ভুটান এবং নেফা (অরুণাচল প্রদেশ)। নেপাল, ভুটান স্বাধীন রাষ্ট্র তবে দৃশ্যত নেপাল এখন চীনের সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে তাতে চীনের প্রভাব দৃশ্যমান। হালে নেপালের নতুন নকশায় কালাপানি অঞ্চল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ভারত-নেপালের ঐতিহাসিক সম্পর্কে চিড় ধরেছে। ভুটান আগের চেয়ে চীনের দিকে ঝুঁকছে বেশি যা ডোকলাম সমস্যার সময় দৃশ্যমান ছিল। সিকিম ভারতের অঙ্গরাজ্য আর লাদ্দাক ও অরুণাচল প্রদেশের বহু জায়গা নিয়ে চীন-ভারত বিবাদ রয়েছে। অতিসম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল এইচএম পানাগ তার নাতিদীর্ঘ বিশ্লেষণে বলেছেন, ইতোমধ্যেই চীন প্যানগাগ হ্রদের পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৪০-৫০ কিমি. জায়গায় চীনের দখলে চলে গিয়েছে যা ভারত সরকার স্বীকার করেনি।

জেনারেল পানাগ আরও লিখেছেন, এতদসত্ত্বেও ভারত চীনের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কমান্ডার লেভেলে আলোচনা চালাচ্ছে। জুন ৬, ২০২০ লে. জেনারেল পর্যায়ে আলোচনা চলবে। (The print; India Fingers have come under chinese boots. Denial wont help : june 4, 2020))

চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা বাড়তে থাকলে তা হয়তো পশ্চিম সীমান্তেই নয়, অরুণাচল প্রদেশজুড়ে উত্তেজনা হবে। উত্তেজনার মাত্রা সীমান্ত সংঘর্ষ পর্যায়ে পৌঁছলে উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের জন্য সুখকর হবে না এবং এর জের ধরে দক্ষিণ চীন সাগরেও উত্তেজনা সংক্রমিত হলে করোনা মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্ত উপমহাদেশের দেশগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। স্মরণযোগ্য যে, বর্তমানে তিনটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। কাজেই উত্তেজনা প্রশমন করতেই হবে এবং সমাধান খুঁজতে হবে আলোচনার মাধ্যমে। অন্যথায় চীন-ভারত-পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের মঙ্গল বয়ে আনবে না। আমরা আশা করি উপমহাদেশের এবং উত্তর সীমান্ত উত্তেজনা আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হোক।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন : নির্বাচন বিশ্লেষক, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং এসআইপিজির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো (এনএসইউ)