সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে সম্মত চীন-ভারত: বেইজিং

নিউজ ডেস্ক:   বুধবার লাদাখে ভারত এবং চীন সেনার পতাকা বৈঠক ভেস্তে গেছে। বৃহস্পতিবার ফের দুই দেশের মেজর জেনারেল স্তরের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য এরই মধ্যে বিমান, নৌ ও স্থল বাহিনীকে সবরকম পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে ভারত। বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শংকরের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র ফোনালাপের পর ওই আলোচনা শুরু হয়েছিল। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘর্ষের জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের কাছে। খবর ডয়েচে ভেলে, দ্য হিন্দু’র।

সোমবার রাতে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে ভারত এবং চীনের সৈন্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এতে ভারতের অন্তত ২০ সেনা নিহত হয়েছে। তার মধ্যে একজন অফিসার। চীনেরও বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছে। চীন অবশ্য সরকারিভাবে তা স্বীকার করেনি।

সেনা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ডয়েচে ভেলে জানায়, ভারত এবং চীনের প্রতিটি সীমান্তেই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছে আরও বেশি সেনা নিয়োগ করা হয়েছে। সকলকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিমানসেনাও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। অন্য দিকে ভারতের নৌসেনাও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে টহল বাড়িয়েছে। তারাও যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সংঘর্ষের জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি বিধানের পাশাপাশি ভারতের উচিত সামনের সারিতে থাকা সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা।

সোমবার লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত হয় এবং ১১০ জন গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় দুই দেশ একে অপরকে দোষারোপ করেছে। এরপর দু’পক্ষেরই উত্তেজনা প্রশমনে রাজি হওয়ার খবর এল। এর আগে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় পাথর, রড নিয়ে চীন ও ভারতের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা বৈঠকে বসে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টা চালান।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং বলেছেন, ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যে মতৈক্য হয়েছে, দুই পক্ষেরই সেভাবে কাজ করা উচিত। সীমান্ত এলাকায় একযোগে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে সেখানকার পরিস্থিতি ঠিকভাবে সামাল দেওয়ার জন্য বিদ্যমান চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ এবং সমন্বয়ও বাড়ানো উচিত।

এদিকে বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুলেছেন। ভারতীয় সেনাদের ‘বলিদান’ বৃথা যাবে না বলে মন্তব্য করে তিনি ভারত শান্তি চায় বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কেউ উস্কানিমূলক ব্যবহার করলে ভারত তার সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত।