ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে ঢাবির মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে ‘কার্জন হল পরিবার’

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি প্রতিনিধি

করোনা মহামারির কবলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতই বাংলাদেশও এক সঙ্কটময় অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় অতিক্রম করছে। এহেন পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় অধিকাংশ মানুষই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন অায়ের মানুষেরা। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের পরিবার টিউশনি থেকে প্রাপ্ত আয়ের উপরে নির্ভরশীল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দেশের বিভিন্ন জেলার এই রকম প্রায় ৭৬ টি পরিবারের পাশে কুরিয়ার সার্ভিসে জরুরী খাদ্য সামগ্রী দিয়ে পাশে দাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী প্লাটফর্ম ‘কার্জন হল পরিবার’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাসির উদ্দীন, ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী, ডাকসু সদস্য তিলোত্তমা শিকদারের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে প্রাপ্ত ফোন কল এবং এসএমএস এর মাধ্যামে নামের তালিকা তৈরী করে, তাদের নিজ বাড়িতে কুরিয়ার যোগে খাদ্য সামগ্রী প্যাকেটে করে (চাল, ডাল, লবন, তৈল, পেঁয়াজ, আটা, আলু) পাঠানো হয়।

জেলাভিত্তিক আধিক্যতা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে ১ম ধাপে সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, বরিশালে মোট ৬৬ টি পরিবারের কাছে ভালবাসার এই উপহার সামগ্রী কুরিয়ার যোগে পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসময় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ আম্পানে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২০ টি শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গিরচর এলাকার প্রায় ১২ টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এই কার্যক্রম প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’র (ডাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর বলেন, খোজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবারই তাদের টিউশনির আয়ের উপর নির্ভর করে চলতো। বেশ কয়েক মাস ধরে তাদের এই আয়ের পথ বন্ধ। আর কতদিন চলবে তাও বলা যায় না। মূলত এই বিষয়টি চিন্তা করে তাদেরকে টার্গেট করেই আমরা এই উপহার প্রদান করেছি।

শাকিল আরও বলেন, আমাদের সবেক শিক্ষার্থী যারা দেশের বিভিন্ন যায়গায় কর্মরত রয়েছেন তারাই আমাদেরকে ফান্ডিং করেছেন। দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের রেশনের পুরোপুরি অংশই আমাদের দিয়েছেন যা থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছি। ইনশাল্লাহ, ধারাবাহিকভাবে আমাদের এ প্রচেষ্টা চলবে এবং একই সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।