পদ্মা সেতুর ৩১তম স্প্যান বসেছে : ৪ হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান

নিউজ ডেস্ক:   পদ্মা সেতুর ৩১তম স্প্যান বসেছে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতরু ৪ হাজার ৬৫০ মিটারে দৃশ্যমান হলো। আজ বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে জাজিরা প্রান্তের ২৫ ও ২৬ নম্বর খুঁটির ওপর সফলভাবে বসানো হয়েছে জাজিরা প্রান্তের সর্বশেষ স্প্যান ৫-এ। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু ৪ হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো। এ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে মাওয়া ও জাজিরা সংযুক্ত হয়েছে। এখন বাকী থাকলো মাওয়া প্রান্তের আর মাত্র ১০টি স্প্যান।

এদিকে স্প্যানটি বসানোর জন্য সকাল ১০টা থেকে শিমুলিয়া-–কাঠালবাড়ি ও শিমমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌরুটে সকল ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে ৮ ঘন্টা পর পৌণে ৬টায় এই রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয় বলে জানান বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ম্যানেজার মো ফয়সাল।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, করোনার মধ্যেও পদ্মা সেতুর কাজ থেমে নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর কাজ। ৩১ তম স্প্যানটি ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। নদীর ¯্রােত আর চ্যানেলের মুখে এটি স্থাপন করতে বন্ধ রাখতে হয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুট। ঝুঁকিপূর্ণ এ স্প্যানটি সফলভাবে বসাতে পারায় এখন আর তেমন কোন জটিলতা থাকলো না। মাওয়া প্রান্তের বাকী ১০টি স্প্যান বসাতে তেমন বেগ পেতে হবে না। এ বর্ষায়ই এ ১০টি স্প্যান বসানো সম্ভব হবে ।

তিনি জানান, নৌপথ বন্ধ করার আগেই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে মাওয়া কুমারভোগের বিষেশায়িত কারখানা থেকে নিয়ে রওয়ানা দেয় ৩৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ভাসমান জাহাজ। ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেনে করে নির্ধারিত পিলারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।  আধা ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে এটি পৌছাতে প্রায় ৪ ঘন্টা লাগে। বেলা সাড়ে ১২টায় এটি পিলারের কাছে পৌঁছে। এরপর শুরু হয় স্প্যান বসানোর কার্যক্রম। ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে এটিকে ভাসমান ক্রেনের সাহায্যে বসিয়ে দেয়া হয় ২৫ ও ২৬ নং পিলালের ওপর।

এর আগে গত ৩১ মে পদ্মা সেতুর ৩০তম স্প্যান পিলারের উপর বসানো হয়। স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তের ২৬ ও ২৭ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয়। এতে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৪৫০০ মিটার বা সাড়ে ৪ কিলোমিটার। আর ৩১ তম স্প্যানটি বসে যাওয়ার মধ্যে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হলো ৪ হাজার ৬৫০ মিটার। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৭ ভাগ। নদী শাসনের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭১ ভাগ। আর সেতুর সার্বিক কাজের অত্রগতি হয়েছে ৭৯ ভাগ।

তিনি বলেন, এটি জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তের সংযোগ স্থল। যেখানে একটি নৌ চ্যানেল দিয়ে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের ফেরিসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করে। এ চ্যানেল দিয়ে এসকল নৌযান চলাচল করলে স্প্যানটি পিলালের উপর বসাতে মারত্মক ঝুঁকি থেকে যায়। তাই নৌযান বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছিল।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি দ্বিতল হবে। এর ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতায় সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন।