দাসপ্রথার পক্ষ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক:     আমেরিকার গৃহযুদ্ধকালীন (কনফেডারেট আমল) সেনা কমান্ডারদের নামে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সেনাঘাঁটির নাম পরিবর্তন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাঘাঁটি থেকে দাসপ্রথার পক্ষের শক্তি ওই কনফেডারেট কমান্ডারদের নাম মুছে নতুনভাবে নামকরণ করতে চাইলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিরোধী। এভাবে প্রকারান্তরে দাসপ্রথার পক্ষ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ট্রাম্প। খবর সিএনএন ও ইউএসএ টুডের।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে বর্ণবৈষম্যবিরোধী বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে, জাগিয়ে দিয়েছে দাসপ্রথাবিরোধী মনোভাব। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দাবি উঠেছে, ১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত আমেরিকার গৃহযুদ্ধকালীন দাসপ্রথার পক্ষের শক্তির স্মৃতি মুছে ফেলার।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত এক ডজন সেনাঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনার নাম এখনও সেই কনফেডারেট সেনা কমান্ডারদের নামে রয়েছে। এরমধ্যে উত্তর ক্যারোলাইনায় ফোর্ট ব্রাগ, টেক্সাসে ফোর্ট হুড, ভার্জিনিয়ায় ফোর্ট এপি হিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সময়ে এসব সেনাঘাটির নাম পরিবর্তনের দাবি উঠলে তা আমলে নেওয়া হয়নি এতোদিন। তবে ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর নতুন করে ওইসব নাম পরিবর্তনের দাবি উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই।

এ নিয়ে সম্প্রতি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এস্পার ও সেনাবাহিনীর প্রধান রায়ান ম্যাককার্থি। সেনাসূত্র জানায়, কনফেডারেট কমান্ডারদের নাম বদলে নতুন নাম করণের জন্য তারা সম্মত হয়েছেন।

তবে এ খবর পেয়েই বেঁকে বসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। টুইটার বার্তার জন্য বিখ্যাত ট্রাম্প বুধবার এক টুইটে ওই নাম বদলের বিরোধিতা করে বলেছেন, ‘এসব সেনাঘাটি ও স্থাপনা মহান আমেরিকার ঐতিহ্য। এগুলো বিজয়ের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। যুক্তরাষ্ট্র এসব স্থাপনার পবিত্র ভূমিতে দেশের বীরসেনানিদের প্রশিক্ষণ ও মোতায়েন রেখে দুটি বিশ্বযুদ্ধ জিতেছে। তাই আমার প্রশাসন এসব মহান ও ঐতিহাসিক সেনাস্থাপনার নাম পরিবর্তনের পক্ষপাতি নয়।’

ট্রাম্পের এই টুইটের মধ্য দিয়ে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে পড়লো।