ব্রিটিশ দাসব্যবসায়ী রবার্ট মিলিগানের ভাস্কর্য সরানো হলো

নিউজ ডেস্ক:    টাওয়ার হ্যামলেটস বারা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ২০০ বছর আগে নির্মিত ব্রিটিশ দাসব্যবসায়ী রবার্ট মিলিগানের ভাস্কর্য। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল জানায়, বারার মেয়র জন বিগসের উপস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কি’র মিউজিয়াম অব লন্ডন ডকল্যান্ডসের সামনে থেকে ভাস্কর্যটি সরানো হয়। খবর বিবিসির।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান সম্প্রতি বলেছিলেন, লন্ডনের যে সব ভাস্কর্য আর রাস্তার নামের সঙ্গে দাসব্যবসার ইতিহাস জড়িয়ে আছে, একটি কমিশন গঠন করে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেছিলেন, দাসব্যবসার ইতিহাস বহন করে, এরকম সবকিছুই সরিয়ে ফেলা উচিত।

এর আগে রোববার দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে সপ্তদশ শতকের দাস ব্যবসায়ীর এডওয়ার্ড কোলস্টোনের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে সাগরে ফেলে দেয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীরা।

১৭৪৬ সালে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রবার্ট মিলিগান ছিলেন সে সময়কার নামকরা দাস ব্যবসায়ীদের একজন। জ্যামাইকায় তার একটি সুগার প্ল্যান্টেশনে ৫২৬ জন দাস কাজ করত । চিনি ছাড়াও কফি ও জাহাজের ব্যবসা ছিল তার।

মিলিগানের মৃ্ত্যুর পর ‘ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কির উন্নয়নে তার ভূমিকার কথা’ স্মরণ করে ১৮১৩ সালে মিউজিয়াম অব লন্ডন ডকল্যান্ডসের সামনে তার ওই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। লাইম হাউজে একটি সড়কেরও নামকরণ হয়েছে মিলিগানের নামে।

মঙ্গলবার সেই ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার পর বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জন বিগস বলেন, ‘মিলিগানের স্ট্যাচুর ব্যাপারে আমাদের অনেকের মধ্যেই অস্বস্তি ছিল। ব্রিস্টলের ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ এবং জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা এটি দ্রুত সরানোর উদ্যোগ নিই।’

আর মিউজিয়াম অব লন্ডন ডকল্যান্ডস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, রবার্ট মিলিগানের ওই ভাস্কর্য একটা ‘অস্বস্তি’র মধ্যেই জাদুঘর প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ছিল বহু বছর। ওই ভাস্কর্য ইতিহাসের শ্বেতসন্ত্রাসের বিতর্কিত সময়েরই অংশ, যা সেসব নির্যাতিত মানুষের যন্ত্রণাকে অস্বীকার করে আসছে। মিলিগানের মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষত শুকোতে আজও তাদের লড়াই করে যেতে হচ্ছে।