বাজেটে জীবন রক্ষা ও জীবিকাকে অগ্রাধিকার দিন: ফখরুল

ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে প্রতারিত করছে: মির্জা ফখরুল
ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে প্রতারিত করছে: মির্জা ফখরুল

নিউজ ডেস্ক:    করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে সরকারকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে জোর না দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা ও জীবিকার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহবান জানিয়ে ১৩ দফা বাজেট প্রস্তাবনা দিয়েছে বিএনপি।

২০২০-২০১২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার দুইদিন আগে মঙ্গলবার সকালে উত্তরার নিজের বাসা থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলের বাজেট ভাবনা তুলে ধরতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রস্তাবনা দেন।

তিনি বলেন, করোনা সংকটকালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে জোর না দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা ও জীবিকার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। করোনা সংক্রামণ রোধ করতে না পারলে কোনোভাবেই অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যখাতে এহেন ঝুঁকি থাকলে অর্থনীতির স্বস্তির কোনো অবকাশ নেই। তাই আগামী তিন বছর মেয়াদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার আলোকে বাজেট প্রনয়ন করতে হবে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মধ্য মেয়াদি বাজেট কাঠামোয় মুদ্রা ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ে নতুন ব্যবস্থা প্রনয়ন করতে হবে, অর্থনীতির ক্রমহৃাসমান সংকোচন রোধে কর্মসংস্থান ধরে রাখতে হবে, আয় সংকোচন রোধ করতে হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

গত ৪ এপ্রিল করোনা মহামারি মোকাবিলায় বিএনপির পক্ষ থেকে ৮৭ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার যে প্যাকেজ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো তাকে বাজেট প্রনয়নে প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।

১৩ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রমকল্যাণ, কৃষি, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন ও স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার, সার্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গঠন, সরকারি বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রম কল্যাণ, কৃষি, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতের বরাদ্ধ বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি ও গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কর্মহীন, কর্মক্ষম, বেকার, দরিদ্র মানুষদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান প্রভৃতি।

স্বাস্থ্যখাতে চরম দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, পূর্ণগঠিত করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল করতে হবে। এমন টেকসই ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি করোনা জাতীয় মহামারির মতো সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় যারা যুদ্ধকালীন সময়ের মতো সর্বদা প্রস্তুত থাকবে একটি ইন বিল্ড সিস্টেমের আওতায়। স্বাস্থ্যখাতে তথা প্রত্যেকের জন্য পারিবারিক ডাক্তার, নার্স ও অবকাঠামোসহ সামগ্রিক ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্ধ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ্য ভাতা আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে বিএনপির বাজেট প্রস্তাবনায়।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে দিন আনে দিন খায় শ্রেণির মানুষজনদের সার্বজনীন সামাজিক কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান, বেকার ভাতা-প্রতিবন্ধী ভাতা-শিশু প্রতিপালন ভাতা-পেনশন ভাতা-আবাসন সুবিধা, স্বাস্থ্য ভাতা প্রদানে এই খাতে জিডিপির ৬-৭ শতাংশ বরাদ্ধ, আইটি প্রযুক্তি ও গবেষণা খাতে বিশেষ বরাদ্দ, কৃষি ও খাদ্য খাতে জিডিপি ও বাজেটের কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ ও ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবাখাতে বরাদ্ধ জিডিপির দশমিক ৭৩ শতাংশ ও বাজেটের ২ দশমিক ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন ও গ্রামীন অর্থনীতি উজ্জীবন, সমন্বিত শিল্পায়ন ও অবহেলা উন্নয়নের ইকুইটি ম্যাচিং তহবিল ও কৃষি কমিশন গঠন, প্রবাসীদের সহজশর্তে ঋণ প্রদান, সুপারিশও করা হয়েছে বিএনপির এই প্রস্তাবনায়।

পোশাক শিল্পখাতে মালিক সমিতির শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মহামারি সংকটকালে শ্রমিকরা যাতে কর্মহীন হয়ে না পড়ে সেজন্য ৫ হাজার কোটি টাকা আর্থিক প্রনোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রণোদনাও নেবেন, ছাঁটাইও করবেন-এই দুইটা একসাথে চলতে পারে না। মোদ্দাকথা, এই সংকট চলাকালে শ্রমিক ছাঁটাই হবে অমানবিক ভুল সিদ্ধান্ত।