জাপান-ব্রিটেন ব্রেক্সিটোত্তর বাণিজ্যিক আলোচনা

নিউজ ডেস্ক:   ব্রেক্সিটপরবর্তী বাণিজ্যচুক্তির উদ্দেশ্যে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ব্রিটেন ও জাপান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে, তা নতুন আঙ্গিকে শুরু করার জন্য এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী নতুন বাণিজ্য চুক্তি ছাড়া ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দু’দেশের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে আগের বাণিজ্য সম্পর্ক অকার্যকর হয়ে যাবে। ফলে ব্রিটেন ও তাদের চতুর্থ বৃহত্তম অইউরোপীয় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশটির শুল্ক ও বাণিজ্য বাধার মুখে পড়বে। খবর বিবিসির।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ হিসেবে গত কয়েক দশক ধরে ইউনিয়নের বিধি অনুসারে ব্রিটেনের বাণিজ্য পরিচালিত হতো। কিন্তু ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে দেশটিকে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিজেদেরই পরিচালনা করতে হবে। বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গেই তারা এখন স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাতে পারবে। গত মাসে এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করেছে তারা। চলতি বছর শেষে ইইউ’র সঙ্গেও স্বাধীন বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপন করার আশা করছে তারা।

করোনা মহামারির কারণে দুই দেশের মধ্যে মুখোমুখি আলোচনা হবে না। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী লিজ ট্রুস ও জাপানের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম বিষয়ক মন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেজির নেতৃত্বে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী লিজ ট্রুস বলেন, আমরা জাপানের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। ইইউর মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, তার চেয়ে অবাধ বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাই আমরা। এই চুক্তি যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যাপারে দেশগুলোকে আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে। করোনাভাইরাসে উদ্ভূত সমস্যার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে প্রতিকূলতা দেখা দিয়েছে, তা দূর করার ব্যাপারে চুক্তিগুলো আমাদের জন্য সহায়ক হবে।

ব্রিটিশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী গত বছর দু’দেশের মধ্যে ৩১ বিলিয়নেরও বেশি মূল্যের বাণিজ্য হয়েছে। ব্রিটেন থেকে জাপানে রপ্তানি হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ পণ্য।

যুক্তরাজ্য আশা করছে, জাপানের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্যের মধ্য দিয়ে তারা ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ-এর (সিপিটিপিপি) মতো একটি সুপরিসর ও প্রগতিশীল বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারবে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ১১ সদস্যের সিপিটিপির সদস্যপদ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ব্যবসায়ের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রবেশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।