অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

নিউজ ডেস্ক: অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এবং মানুষের জীবন জীবিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামীকাল সংসদে গণমুখী বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেছেন।

বুধবার সংসদ ভবন এলাকার সরকারী বাসভবন থেকে মেট্রোরেল কার্যালয়ে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরীর পূর্ব-পশ্চিমে সংযোগ বাড়াতে আরও একটি মেট্রোরেল রুট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। হেমায়েতপুর হতে গাবতলী-মিরপুর ১০-কচুক্ষেত-বনানী-গুলশান ২ হয়ে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজ তদারকির জন্য বুধবার পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি সই হয়।

এই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ বাসভবন থেকে যুক্ত হন ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি একইভাবে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

‘বাজেট প্রণয়নে পরামর্শ নেওয়া হয় না’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের রক্তব্য সত্যের অপলাপ মাত্র। করোনা ভাইরাসের সংকটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ঠিক তেমনি বাজেট প্রণয়নের আগে দীর্ঘ সময় নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও পরোমর্শ নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ছাড়াও বিজ্ঞদের পরামর্শ, গবেষনা ও পার্টির ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় করেই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। জীবন ও জীবিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে গণমুখি কল্যাণ মূখি বাজেট জাতীয় সংসদে আগামীকাল উথ্যাপিত হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলের মতামত নিয়েই যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সরকার এবং দলের অভ্যন্তরে সকলের সাথে আলাপ করেই সিদ্ধান্ত নেন। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বিচার বিশ্লেষন করলেই দেখতে পাবেন। এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ দলেই গণতন্ত্র চর্চা হয়ে থাকে।’

অসচেতনতার কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা সংক্রমন বেশি করে শুরু হলে সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমনের ক্রম অবনতিশীল এই পরিস্থিতি নতুন করে যে সকল স্থানে লকডাউন করা হয়েছে, সেই সকল এলাকার মানুষদের ধর্য্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানাচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত আপনার আমার, আমাদের সকলের কল্যাণেই নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আর যে সকল এলাকা লকডাউনের আওতা মুক্ত, আপনারা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয়, যদি আবার সেকেন্ড ওয়েব শুরু হয় তাহলে দেশের সব এলাকায় সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। পরিস্থিতি আর অবনতি না ঘটিয়ে আসুন আমরা বিশ্ব স্থাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। সকলের সমন্বিত প্রয়াসে এই দু:সময় কেটে যাবে। করোনা সংকট থেকে আমরা মুক্তি পাবো, এটাই প্রত্যাশা।’

অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে উড়াল ও পাতালসহ ছয়টি মেট্রোরেল রুট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত রুট-৫ এর নর্দার্ন অংশের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রুটে সাড়ে তের কিলোমিটার পাতাল এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার হবে উড়াল। এ রুটটি নির্মাণে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এরমধ্যে জাপান সরকারের অর্থায়ন প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা বলে মন্ত্রী জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণাধীন মেট্রো রুট-৬ এর চলমান কাজের শতকরা ৪৫ ভাগ শেষ হয়েছে। সম্পতি কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে এ রুটে দশ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং এক কিলোমিটার রেল লাইন স্থাপন করা হয়েছে।

প্রায় এক হাজার ছয়শত কোটি টাকার চুক্তিপত্রে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষে জাপানের নিপ্পন কোয়ে কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কেন নিশিনো ও ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল কোম্পানির সভাপতি ঈজি ইওনেযাওয়া স্বাক্ষর করেন।

এ সময়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশে জাইকা’র চীফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউহো হায়াকাওয়াসহ মেট্রোরেলের বিভিন্ন রুটের প্রকল্প পরিচালক, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।