বরিশালের ডা. আনোয়ার হোসেনের মারা গেছেন

নিউজ ডেস্ক:    নিজে চিকিৎসক এবং একটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান হওয়ার পরেও রাজধানীর তিনটি হাসপাতাল ঘুরে আইসিইউ বেড না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ডা. আনোয়ার হোসেন (৫৫)। বরিশাল নগরীর বান্দ রোডের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। গত রবিবার রাতেও অস্ত্রোপচার করেছিলেন এক অসুস্থ রোগীর। এরপর নিজেরই শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। তবে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকার এএমজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বরিশালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনও চিকিৎসকের এটিই প্রথম মৃত্যু।

রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের পরিচালক অ্যাডভোকেট লস্কর নূরুল হক জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন আনোয়ার হোসেন। রবিবার রাতেও তিনি অসুস্থ রোগীর অস্ত্রোপচার করেন। আগে থেকেই তিনি অ্যাজমায় ভুগছিলেন। সোমবার সকালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা হলে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। দুপুরের পর থেকে তার অবস্থার অবনতি হলে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখান এএমজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, অক্সিজেন লাগানো অবস্থায় সোমবার রাতে অ্যাম্বুলেন্সে প্রথমে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার (অ্যাপোলো), পরে স্কয়ার এবং আনোয়ার খান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় রাত ৩টার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এএমজি হাসপাতালে। সেখানে আইসিইউ সুবিধা পাওয়া গেলেও ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ডা. আনোয়ার হোসেন।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সসিবিলিটির (এফডিএসআর) যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী জানান, মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তা পজেটিভ আসে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বরিশালের রাহাত আনোয়ার হসপিটাল চত্বরে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১টায় ঝালকাঠীর বিনয়কাঠী ইউনিয়নের নাক্তা গ্রামের আজিজিয়া নূরানী মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পরিবারিক গোরস্থানে মা মরহুমা হালিমা বেগমের পাশে দাফন করা হয়।

চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস (এফডিএসআর) এর হিসাবে, ৮ জুন পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ২১ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। ডা. আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে ২২ চিকিৎসকের মৃত্যু হলো।