নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এবার মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন

নিউজ ডেস্ক:    নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এবার মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। দেশের উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল মিলিয়ে সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এজন্য ‘বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল) রিনিউবেল’ নামে নতুন একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানির চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) রয়েছে এই কোম্পানির মালিকানায়। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের অর্ধেক মালিকানা থাকবে এই কোম্পানিতে। কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হবে। সোমবার (৮ জুন) মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোম্পানি গঠনের বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন এনডব্লিউপিজিসিএল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম খোরশেদুল আলম।

তিনি বলেন, ‘আমরা সৌর বিদ্যুৎ ও বায়ু বিদ্যুৎ মিলিয়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছি। এরমধ্যে পাবনায় ৬০ মেগাওয়াট এবং সিরাজগঞ্জে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাবনায় এরইমধ্যে জমি নেওয়া হয়েছে। আর সিরাজগঞ্জে জমি লিজ নেওয়ার কাজ চলছে। দরপত্র তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের পর খুব শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই কোম্পানির অধীনে সব কেন্দ্রই হবে ৫০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট বা তারও বেশি উৎপাদন ক্ষমতার। ইতোমধ্যে পাবনা, পায়রা এবং সিরাজগঞ্জে তিনটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য জমি অধিগ্রহণ এবং প্রাথমিক সম্ভাব্যতার কাজও শেষ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বে প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মধ্যে ক্রমেই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমে এসেছে। তেল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিন ভাগের একভাগ দামে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। কিন্তু দেশে বিদ্যুৎ খাত দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর আগে চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। এখন সরকার নিজেই সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিলো।

ক্রমান্বয়ে সারা বিশ্বই এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। উন্নত বিশ্বের কোনও কোনও দেশ একেবারেই জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে বের হয়ে আসতে চাইছে। সেক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে সেই বিদ্যুৎ গাড়িতেও ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বের এই পরিবর্তিত নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে কোনও প্রকল্প এখন পর্যন্ত গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। তবে এ ধরনের বড় প্রকল্প শুরু হলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ হবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের অনুমোদনের পর এখন কাজ শুরু করবে উদ্যোক্তা সংস্থা। কোম্পানি গঠন করেই তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করতে পারে। এখানে আর কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। তিনি বলেন, এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভালো বিনিয়োগকারীও পাওয়া যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলো পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ করছে।’