জামিন পেলেও বাংলাদেশি সহ অবৈধ বিদেশিদের ডিটেনশন সেন্টারে ভরার নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক: ভারতে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে যে বিদেশিদের আটক করা হবে, তারা জামিন পেলেও তাদের বাইরে ছাড়া যাবে না – বরং ফরেনার্স ডিটেনশন সেন্টারে আটক রাখতে হবে বলে কর্নাটক হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে।

হাইকোর্ট বলেছে, কোর্টের পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত বা তাদের নিজ দেশে ফেরত না-পাঠানো ডিটেনশন সেন্টারই হবে তাদের ঠিকানা।

ব্যাঙ্গালোরে আটক জনা পনেরো কথিত বাংলাদেশির জামিনের আবেদনে রায় দিতে গিয়েই আদালত এ কথা বলেছে।

মানবাধিকার কর্মীরা ও অনেক আইনি বিশেষজ্ঞই এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করছেন, তাদের মতে কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্বের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল তাকে এভাবে ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখাটা চরম অমানবিক।

‘’বাবলু খান ও অনান্যরা বনাম কর্নাটক সরকারে’’র যে মামলায় এই রায়টি দেওয়া হয়, সেটির সূত্রপাত বাংলাদেশি সন্দেহে পনেরোজন নারী-পুরুষ ব্যাঙ্গালোর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর।

পুলিশের অভিযোগ, কোনও পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই এরা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছেন – ফলে তাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা আনা হয়েছে।

এছাড়া ওই দলের একজনের কাছে কয়েকটি বুলেটও নাকি পাওয়া গেছে, ফলে চার্জ আনা হয়েছে আর্মস অ্যাক্ট বা অস্ত্র আইনেও।

গ্রেপ্তারের পর এই কথিত বাংলাদেশিরা যখন হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন, তখনই এই রায়টি এসেছে।

ব্যাঙ্গালোরের মানবাধিকার আইনজীবী মৈত্রেয়ী কৃষ্ণান বলছিলেন, “একটা জামিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এখানে যে রায় দিয়েছেন সেটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।”

“এটা বিশাল লম্বা একটা রায়, অবৈধ বিদেশিদের নিয়ে কী করতে হবে তার একটা বিশাল নির্দেশিকাও সেখানে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।”

“পুরোটা আমি এখনও পড়ে উঠতে না-পারলেও মোদ্দা কথাটা এটাই – এরা যদি জামিনও পান বা জেল থেকে ছাড়াও পান, তারপর এদের ডিটেনশন সেন্টারে ভরে দিতে হবে।”

আসামের ডিটেনশন সেন্টারগুলোর অভিজ্ঞতা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন বিদেশিদের জন্য অনেক ফরেনার্স ডিটেনশন সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে, আর সেগুলোকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি।