ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস ছিল মে

নিউজ ডেস্ক:    উত্তর গোলার্ধের সাইবেরিয়া বিস্ময়কর রকমের উত্তপ্ত হয়ে ওঠার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আবহাওয়ার ওপর। সাইবেরিয়ার গরমের প্রভাবে গত মে মাসকে রেকর্ড করা হয়েছে উষ্ণতম মে মাস হিসেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিজ্ঞান গবেষণা বিভাগ কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে সোমবার এনডিটিভর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের পর গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়টুকু ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম সময়। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে মেলালে হয়তো আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য পাওয়া যাবে। ১৯ শতক থেকে নাসার সংগ্রহে আবহাওয়া সংক্রান্ত নানা তথ্য রয়েছে।

গত মে মাসের তাপমাত্রা ১৯৮১-২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ের মে মাসের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ১৩ ডিগ্রি বা দশমিক ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। যা ২০১৬ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

জুন ২০১৯ থেকে মে ২০২০ পর্যন্ত ১২ মাস সময়ের তাপমাত্রা গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৩ বা দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কোপার্নিকাসের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এখন পর্যন্ত যত তথ্যের রেকর্ড রয়েছে সে অনুযায়ী গত ১২ মাস ছিল উষ্ণতম।

কোপার্নিকাসের বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে সাইবেরিয়া, আলাস্কা ও অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা বিস্ময়করভাবে বেড়েছে। এসব অঞ্চলে গত মাসের তাপমাত্রা একই সময়ের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন গবেষকরা।

মানবসৃষ্ট কারণে অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দাবানল ছড়িয়ে পড়া এবং ঘন ঘন তীব্র মাত্রার হ্যারিকেনের আঘাত হানার সঙ্গে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তিতে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমানোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব নেতাদের সে প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে কলমেই রয়ে গেছে।