যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদবিরোধী সমাবেশ

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার বর্ণবাদ বিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে। সমাবেশ থেকে তারা বর্ণবাদ অবসানে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত হাজার হাজার কৃষ্ণাঙ্গ, শেতাঙ্গ ও বাদামি চামড়ার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সমাবেশের মূল কেন্দ্র ছিল ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউস ঘিরেও ছিল প্রতিবাদকারীদের সমাবেশ। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।

গত ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে শেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামের নিরস্ত্র এক কৃষ্ণাঙ্গ প্রাণ হারালে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে। দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

ওয়াশিংটনের একজন প্রতিবাদকারী ক্রিশ্চিন মন্টগমেরি বলেন, বহু দশক ও শত শত বছর ধরে এ লড়াই চলে আসছে। এখন সময় এসেছে পরিবর্তনের।

রৌদ্রোজ্জ্বল ও উষ্ণ দিন হওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা মহামারি করোনার কারণে মাস্ক পরে ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবীরা পানি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং অন্যান্য জিনিস বিক্ষোভকারীদের সরবরাহ করে। বিক্ষোভকারীদের মাথার ওপর হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা গেছে। কোনো কোনো বিক্ষোভকারীকে নাচতেও দেখা গেছে।

সেনা সদস্য ও পুলিশ সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আগের তুলনায় তাদের উপস্থিতি ছিল কম। তাদের কেউ কেউ বিক্ষোভকারীদের স্মিত হাসি উপহার দেন এবং তাদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ড্যানিস লরেন্ট মান্টে বলেন, ‘মার্টিন লুথার কিং এখানে দাঁড়িয়েছিলেন। অনেক অনেক বছর পর নতুন আশার বার্তা নিয়ে আমরা এখানে ফিরে এসেছি।’

এদিকে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয় ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে।

লন্ডনে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে একজন বক্তা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ নির্মূলের এখনই সময়।

হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করেছে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও তিউনিসে। তাদের স্লোগান ছিল, ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই, আমরা নিশ্বাস নিতে চাই।’

এদিকে ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফুঁসে ওঠা বিক্ষোভকারীদের প্রতি কঠোর অবস্থান নেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিক্ষোভকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সেনা অভিযানেরও হুমকি দেন।

এর আগে চলতি সপ্তাহের প্রথমদিকে ওয়াশিংটনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক মানবাধিকার গ্রুপগুলো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।