অসহায়-দরিদ্র মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইউপি সদস্য উধাও

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন। দিনের পর দিন সহায়তা বা টাকা কোনটাই না পেয়ে বিচার দাবি করেছেন দিশেহারা ভুক্তভোগী হতদরিদ্ররা। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ.কে এম গালীভ খান ৬জুন বিকেলে জানান অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনকে বরখাস্ত করার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে দু’একদিনের মধ্যেই পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঈশ্বরগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রইছ উদ্দিনের প্রতারণার শিকার মমরেজপুর গ্রামের নিঃসন্তান বিধবা বৃদ্ধা হামিদা খাতুন ও বিলখারুয়া গ্রামের বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে তাদের অভিযোগের কথা জানান। তাদের মতো শতশত অসহায়-দরিদ্র মানুষকে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতাসহ সরকারী নানা সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন। একেক জনের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো সুযোগ-সুবিধা তো দেয়ইনি উল্টো টাকা ফেরত চাইলে নানা হুমকি-ধামকি ও মারধর করা হয় তাদের। রইছ উদ্দিনের ফাঁদে পড়ে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে।

ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, ‘মেম্বারে আমার থেকে ২২ হাজার টাকা নিছে। ঘর বাইন্ধে দিবে, প্রতিবন্ধী কার্ড বানাইয়া দিব বলে।’

এক বৃদ্ধা বলেন, ‘রইছ উদ্দিনের হাতে ধরছি পাই ধরছি, সে আমারে টাকাটা দিল না।’

আরেকজন বলেন, ‘আমি যদি টাকা চেয়ে বিচার চাই তাইলে নাকি আমার নামে কেস হয়ে যাবে, হুমকি দেহায়’’

এদিকে দরিদ্র মানুষের টাকা আত্মসাৎকারী ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনের বিচার ও টাকা ফেরতের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। স্থানীয় একজন বলেন, ‘৭০ লাখের মত টাকা সে মানুষের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।’ আরেকজন বলেন, ‘শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা নিছে। এর আমরা বিচার চাই।’

ঈশ্বরগঞ্জ ৮নং রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোদাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও মহোদয়কে বলেছি আইনগত ব্যবস্থা যা যা নেওয়ার দরকার নিতে।’

ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছে। এ ব্যাপার ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনের বিরদ্ধে নানান অভিযোগের কথা শুনেছি। অভিযোগ পেলে গ্রেফতারসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিবে থানা পুলিশ।