লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের মুকসুদপুরের ২ হোতা গ্রেফতার

লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ২ হোতাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮ মাদারীপুর। ৪ জুন মধ্যরাতে তাদের আটক করা হয়৷পরে তাদের মুকসুদপুর থানায় সোর্পদ করা হয়।
আটকৃত মানবপাচারকারীরা হলো মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের লোহাইড় গ্রামের রত্তন শিকদারের ছেলে সেন্টু শিকদার (৪৫) এবং গোহালা ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রামের আব্দুল রব মোড়লের স্ত্রী নারগীস বেগম (৪০)।
লিবিবায় গুলি করে দুই যুবককে হত্যা ও অপর যুবককে আহত করার ঘটনায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় ৩ মানব পাচারকারী বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
১ জুন সোমবার দুপুরে নিহত সুজন মৃধার পিতা কাবুল মৃধা বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১, তারিখ: ০১.০৬.২০২০)।
আটকৃতদের বিষয়টি মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর্জা আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত করেছেন।তিনি আরো জানান, মামলার ৩ আসামীর মধ্যে মুকসুদপুর উপজেলার সুন্দরদী গ্রামের ওসমান শেখের ছেলে লিয়াকত শেখ ওরফে লেকু শেখ ব্যাতিত ২ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।
মামলার বিবরণে নিহত সুজন মৃধার পিতা কাবুল মৃধা জানান, গত ১ জানুয়ারী তার ছেলে সুজন মৃধা ও ভাগিনা ফরিদপুর জেলার সালথা থানার আলমপুর গ্রামের কবির শেখের ছেলে কামরুল শেখকে ৮ লাখ টাকা ও কালাম শেখের ছেলে ওমর শেখকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া পাঠানোর পর ভাল বেতনে চাকুরী দেবার জন্য মৌখিক চুক্তি হয়। এরপর ১৫ জানুয়ারী তিনি ২ লক্ষ ৫০ হাজার ও কালাম শেখ ৫০ হাজার টাকা দালাল রব মোড়লকে দেন। পরে রব মোড়ল অন্য দুই আসামীর কাছে টাকা পৌঁছে দেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারী আসামীরা বাড়ীতে এসে লিবিয়া পাঠানোরে উদ্দেশ্যে সুজন মৃধা, কামরুল শেখ ও ওমর শেখকে বাড়ী থেকে ঢাকায় নিয়ে যান। এরপর ভারত থেকে দুবাই, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়া পাঠায়।
পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারী আসামীদেরকে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়। লিবিয়া যাওয়ার এক মাস পর চুক্তি ভেঙ্গে লিবিয়ার বেনগাজীর মিজদাহ শহরে নিয়ে আটক করে অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় মুক্তিপণের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। পরে দালাল চক্রটি সুজন মৃধা, কামরুল শেখ ও ওমর শেখের কাছে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে নিয্যাতন করার ভয়েস ম্যাসেজ নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রেরণ করে।
পরে ম্যাসেজ পেয়ে শারীরিক ও মানসিক নিয্যাতনের বিষয়টি আসামী তিন দালালকে জানালে তারা দাবীকৃত টাকা না দিলে কিছেই করতে পারবে না বরে জানিয়ে দেয়। এরপর ২৮ মে সুজন মৃধা ও কামরুল শেখকে গুলি করে হত্যা করে ও ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন।
আহত ওমর শেখের পিতা মো: কালাম শেখ ও মা শাহিদা বেগম তার আহত ছেলেকে ফেরত চেয়েছেন। একই সাথে তারা মানব পাচারকারী দালাল চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, দুই যুবককে গুলি করে হত্যা ও অপর এক যুবককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ২ আসামীকে র্যাব-৮ মাদারীপুর গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করেছে বাকী আসামীদের ধরতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে আইনে আওতায় আনা হবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে গোপালগঞ্জের মুকসদুপুর উপজেলার সুজন মৃধা রয়েছেন। অপর যুবক ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে লিবিয়ার ত্রিপলির একটি হাসপাতালে জীবন-মরনের সন্ধিক্ষনে রয়েছেন।

চিফ রিপোর্টার, সাইফ শোভন, ঢাকানিউজ২৪.কম