ভারত ও চীনের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্তাদের বৈঠক শনিবার

নিউজ ডেস্ক:   দীর্ঘ এক মাসের সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে ভারত ও চীনের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্তাদের বৈঠক বসছে কাল শনিবার। পূর্ব লাদাখের লেহ জেলার অন্তর্গত প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) লাগোয়া চুসুলে এই বৈঠকে অংশ নেবেন দুই দেশের কোর কমান্ডাররা।

দুই দেশের সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাত কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই কোর কমান্ডারদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই বোঝা যাচ্ছে। এলএসির বিবাদ মেটাতে এর আগে বড়জোর ডিভিশনাল কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক এই প্রথম।

বৈঠক শুরুর এক সপ্তাহ আগে চীনা সেনাবাহিনীর ‘ওয়েস্টার্ন থিয়েটারের’ প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন জেনারেল জু ওইলিং। চলতি জুন মাসের ১ তারিখে চীনের এক রিপোর্টে এই নিযুক্তির খবর লেখা হয়েছে। জু ওইলিং কট্টরপন্থী বলে পরিচিত। তিনি এর আগে ওয়েস্টার্ন থিয়েটারের কমান্ডার ছিলেন। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রধান ঝাও জোঙকিকেও কট্টরপন্থী মনে করা হয়। ২০১৭ সালে ভুটান-চীন সীমান্ত ডোকলামে সংঘাতের সময় ঝাও জোঙকি ছিলেন ওয়েস্টার্ন থিয়েটারের কমান্ডার। এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন ১৪ কোরের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লে. জেনারেল হরিন্দর সিং।

চীন-ভারত সীমান্ত বিবাদ বহু বছরের। বিবাদ মেটানোর জন্য দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের বহুবিধ ব্যবস্থাও স্বীকৃত। সামরিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা ছাড়াও বিবাদ মেটাতে কূটনৈতিক স্তরে মীমাংসার চেষ্টা হয়। ডোকলামের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছিল। কাল শনিবার সামরিক পর্যায়ের উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনার পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও দুই দেশের কথা চলছে। এখন দেখার, ওই আলোচনা ভারতকে কতটা সন্তুষ্ট করে।

করোনাকালে চীন কেন লাদাখের প্যাংগং লেক, ডেমচক ও গালওয়ান উপত্যকায় এলএসি অতিক্রম করে নতুন ঘাঁটি গাড়ল এবং কেনই–বা সিকিমের নাকুলা অঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর টহলদারিতে বাধা দিল, তার নানা রকম ব্যাখ্যা হচ্ছে। টানা এক মাস ধরে এই এলাকাগুলোয় দুই দেশের বাহিনীর পারস্পরিক সামরিক অবস্থান অপরিবর্তিত। ভারতের অভিযোগ অনুযায়ী, চীন এলএসি পেরিয়ে নতুন বাংকার তৈরি করেছে ও ছাউনি ফেলেছে। একইভাবে চীনের অভিযোগ, ভারত তাদের অংশে ঢুকে রয়েছে। এই অবস্থায় কট্টরপন্থী সামরিক কর্তা নিয়োগ করলেও চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণাধীন। দুই দেশই স্বীকৃত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী কথা বলে সমস্যার সমাধান করবে। কূটনৈতিক স্তরেও দুই দেশ সক্রিয়।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, বহু চীনা সৈন্য বিতর্কিত এলএসিতে ঘাঁটি গেড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র অনুযায়ী, বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করেছে ভারতও। ঢিল ছোড়া দূরত্বে দুই বাহিনীর অবস্থান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কথাও জানিয়েছিলেন, ভারতীয় এলাকায় যে অবকাঠামো তৈরিতে চীনা ফৌজ বারবার বাধা দিচ্ছে, তা বন্ধ রাখা হচ্ছে না। বস্তুত, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে কয়েক হাজার শ্রমিককে গত মাসে ভারতের দুই রাজ্য বিহার ও ঝাড়খন্ড থেকে লাদাখে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) যতটা উত্তেজনাপ্রবণ, চীন সীমান্তে এলএসি ততটা নয়। এলওসিতে প্রায় নিয়মিতই দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলি চলে। এলএসিতে কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র চলে না। সাম্প্রতিক কালে চীনা ফৌজের সঙ্গে যত বিবাদ হয়েছে, সব সময়েই তা হাতাহাতির পর্যায়ে আবদ্ধ থেকেছে। বড়জোর ঢিল ছোড়াছুড়ি হয়েছে। কিন্তু গোলাগুলি না চললেও দুই দেশই এলএসির ব্যাখ্যায় অটল থাকতে সদা সচেষ্ট। এলএসি বরাবর সামরিক অবকাঠামো নির্মাণে ভারত যত দিন অনাগ্রহী ছিল, তত দিন সমস্যাও মাথাচাড়া দেয়নি। যেদিন থেকে ভারত তৎপর হয়েছে, উত্তেজনাও বাড়িয়ে তুলেছে চীন। স্থানীয় পর্যায়ে অমীমাংসিত বিবাদ এই প্রথমবার কোর কমান্ডার পর্যায়ে বিবেচিত হবে। তিন জায়গাতেই চীন দখল করা এলাকা থেকে পিছু হটে কি না, ভারতের নজর সেখানেই।