ভারতে নিষিদ্ধ তাবলিগের বিদেশি সদস্যরা

নিউজ ডেস্ক:    তাবলিগ জামাতের বিদেশি সদস্যদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। প্রায় দু হাজার দুশোজন বিদেশি সদস্যের ভারত ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ বছর এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে খবর।

প্রসঙ্গত, ভ্রমণের ভিসায় এসে দেশে ধর্মীয় কার্যকলাপে অংশ নিয়েছিল তাবলিগ জামাতের বিদেশি সদস্যরা। এই অপরাধে আগেই তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এবার ভারতে ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। মধ্য মার্চে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে বহু তাবলিগি সদ্য জমায়েত করেছিলেন। তাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। অভিযোগ, লকডাউন ঘোষণার পরও সেই এলাকায় জমায়েত করেছিলেন তারা। সেখান থেকে করোনাও ছড়িয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এপ্রিল মাসে তাবলিগ জামাতের ৯৬০ সদস্যকে কালো তালিকাভাক্ত করেছিল। একইসঙ্গে তাদের ভিসাও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ওই ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে দিল্লি পুলিশ এবং অন্য রাজ্যের পুলিশের কাছে নিজ নিজ এলাকায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দুর্যোগ আইন এবং বিদেশি নাগরিক আইনের অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছিল। এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে খবর। দিল্লির নিজামুদ্দিনে হওয়া এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রায় আড়াই হাজার বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে খবর। তাদের মধ্যে আমেরিকা, ফ্রান্স, বাংলাদেশ, ইতালি, মালয়েশিয়ার নাগরিকও ছিল। এদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। তাদের অনেককে দেশেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আগামী ১০ বছর তারা আর ভারতের মাটিতে পা রাখতে পারবেন না বলে জানানো হয়।

এদিকে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির গোষ্ঠী সংঘর্ষের সঙ্গে নিজামুদ্দিন মার্কাজের নাম যুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট সেই সংঘর্ষের চার্জশিট দাখিল করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে দিল্লিতে হওয়া সেই ঘটনায় রাজধানী পাবলিক স্কুলে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে কাঠগড়ায় নিজামুদ্দিন মার্কাজ। সিটের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানী পাবলিক স্কুলের মালিক ফয়জল ফারুকের সঙ্গে মার্কাজের মাওলানা সাদ ঘনিষ্ঠের যোগাযোগ রয়েছে। সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সাদের হয়ে মার্কাজ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন করে থাকেন।

চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, মাওনার এক আত্মীয়ও ফয়জলের পরিচিত। যেদিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, সেদিন ওই আত্মীয়র সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রেখেছিলেন ফয়জল ফারুক। সিটের তদন্তে উঠে এসেছে, সংঘর্ষের মাসখানেক আগে ফয়জল ফারুক যমুনা বিহার ও সংলগ্ন এলাকায় কোটি টাকার ওপর সম্পত্তি কিনেছিলেন।