কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান আবদুল মান্নান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হলেন

নিউজ ডেস্ক:   কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান আবদুল মান্নান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হয়েছেন । ভূমি সংস্কার বোর্ড চেয়ারম্যান (সচিব) এর দায়িত্বে থাকা কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান মো. আবদুল মান্নান কে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন নিয়োগ-১ অধিশাখার উপ-সচিব মো. তমিজুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আবদুল মান্নানকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি মো. আবদুল মান্নান সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব থেকে সচিব পদে পদোন্নতি পান। একই সঙ্গে তাঁকে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

পরে করোনা পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম সুসমন্বয়ের লক্ষ্যে তাঁকে কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে যোগদান করেছিলেন মো. আবদুল মান্নান। সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই পদে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। মো. আবদুল মান্নান কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬২ সালের ১৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ মো. ছিদ্দিক হোসেন এবং মাতা মরহুমা আয়েশা আক্তার খাতুন।

তাঁর সহধর্মিণী কামরুন নাহার। তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক। মো. আবদুল মান্নান কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে কলেজ জীবন সম্পন্ন করে। পরে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস (অনার্স) এবং এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা-ইন-এডুকেশন ডিগ্রি লাভ করেন। মো. আবদুল মান্নান বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৮ম ব্যাচের একজন সফল কর্মকর্তা। তিনি মাঠ প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৪ খ্রি. পর্যন্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চট্টগ্রাম জেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করা ছাড়াও তিনি রাজউক এর পরিচালক এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা’র একান্ত সচিব হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে যোগদান করার আগে তিনি যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন।

একজন সুলেখক এবং কথাসাহিত্যিক হিসেবে দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত তাঁর সাহিত্য বিষয়ক গল্প ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ক নানা সংগঠনের সাথে তিনি একনিষ্ঠভাবে জড়িত রয়েছেন। তাঁর এমন সংবাদে নিজ জন্মভূমিতে বইছে আনন্দ। অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁকে।

চিফ রিপোর্টার, সাইফ শোভন, ঢাকানিউজ২৪.কম