বিদ্যুৎ বিল নিচ্ছে না ব্যাংক, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

সুমন দত্ত: পুরান ঢাকায় বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে গ্রাহকরা। গত ৩১ মে থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হলেও বিদ্যুৎ বিল নিচ্ছে না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এতে গ্রাহকরা বিল জমা দিতে বিভিন্ন ব্যাংক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে বিল না দিতে পেরে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন গ্রাহকরা।

পুরান ঢাকার বেশিরভাগ বিদ্যুৎ গ্রাহক ডিপিডিসির। বিলে ডিপিডিসি নির্দিষ্ট ব্যাংকের নাম ও শাখা লিখে দিলেও ব্যাংকগুলো সে অনুসারে বিদ্যুৎ বিল নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। সূত্রাপুর থানাধীন লক্ষ্মীবাজার হোল্ডিং এর একজন গ্রাহক ৪ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বেসরকারি ব্যাংক বিসিবিএলের নর্থ ব্রুক হল রোড শাখায় যায়। অন্য সময় এই ব্যাংক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নিলেও আজ বিদ্যুৎ বিল নেবে না জানায় ব্যাংকটি। না নেয়ার যুক্তি হিসেবে জানায় বর্তমান মাসের বিল আসলেই এক সঙ্গে আগের মাসের বিল নেয়া হবে। তা না হলে তারা বিল গ্রহণ করবে না। এবার একই গ্রাহক গেল সদরঘাটের অগ্রণী ব্যাংক শাখায়। ওই ব্যাংক পেছনের মাসের বিল নেবে না বলে জানায়। ব্যাকডেটের বিল তারা নেয় না। কয়েকজন গ্রাহক তার এই কথার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, গত মাসের লক ডাউনের সময় বিল দিতে এসেছিলাম। তখন কেন নেননি? জবাবে দাড়িওয়ালা ওই কর্মকর্তা বলেন, তখন স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংক চলেনি। তাই নেইনি। অগত্যা বহু গ্রাহক এসব তর্কাতর্কি দেখে ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল না দিয়ে চলে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ডিপিডিসির গ্রাহকরা অনলাইন ব্যাংকিং চলে এমন শাখা থেকে বিদ্যুৎ বিল দিতে পারে। কিন্তু দু:খের বিষয় ব্যাংকগুলো বিদ্যুৎ বিল নিতে অনীহা প্রকাশ করে।

একজন গ্রাহক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমরা সরকারকে টাকা দিতে চাই। অথচ সরকারের লোকজন টাকা নিতে চায় না। এরা কাদের ইশারায় চলে আল্লাই জানে। বিদ্যুৎ বিল দিতে এসে এমন হয়রানির শিকার হবো ভাবতে পারিনি। পুরান ঢাকায় বেশিরভাগ ব্যাংক অনলাইনে লেনদেন করে। অথচ বিলের বিষয়ে একেক ব্যাংক একেক রকম পলিসি বানিয়ে রেখেছে। একেক ব্যাংক একেক রকম বিল গ্রহণ করে। অথচ সব ব্যাংক ইচ্ছা করলে সব বিলই নিতে পারে। কিন্তু তারা নেবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া হলেও ব্যাংকগুলো গ্রহাকদের সেই সেবা থেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/