তেলের ট্যাংকারে ফুটো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন পুতিন

নিউজ ডেস্ক:  হঠাৎ করেই লাল হয়ে উঠল নদীর পানি। অভূতপূর্ব এই দৃশ্যে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। পরে জানা গেল ২০ হাজার টন জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকার ফুটো হয়ে যাওয়ায় নদীর পানিতে ডিজেল মিশে পানি লাল হয়ে গেছে।

পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠল যে, শেষ পর্যন্ত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জরুরি অবস্থাই ঘোষণা করতে হলো। সুমেরু অঞ্চলে এ ঘটনায় পরিবেশবিদরা মনে করছেন, ওই অঞ্চলে দীর্ঘময়াদী ক্ষতি হবে। খবর বিবিসির

জানা গেছে, নরিলক্সে একটি থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে বিশালাকার একটি জ্বালানির ট্যাংকার ফেটে এমন ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার উত্তরাংশের এ শহরটি সুমেরু বৃত্তের ১৮০ মিটার ওপরে অবস্থিত। খনন কাজের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থা ডিজেল রেখেছিল বিরাট ট্যাংকে। সেই ট্যাংক আচমকা ফেটে বেশিরভাগ ডিজেল মিশে যায় নদীতে। তাইমিরশকি দলগ্যানোর জেলার একটি রিসার্ভারেও কিছুটা ডিজেল মিশে গিয়েছে। আম্বার্নোয়া ও দাদিকান নদীতে মিশেছে বেশিরভাগ পেট্রোল। ফলে ওই নদীর জলের রং লাল হয়ে গেছে।

দূষণের পরিমাণ এতটাই ভয়াবহ যে, স্যাটেলাইট ছবিতেও ধরা পড়ছে। গুগল ম্যাপ ও ইয়ান্ডেক্স স্যাটেলাইট ছবিতেও নদীর জলের লাল রং ফুটে উঠেছে। ঘটনার পর দুদিন কেটে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন বুঝতে পারছে না যে ঠিক কী করা উচিত! পুতিন ওই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে দূষণ কিছুটা রোধ করা যেত বলে মনে করছেন অনেকে। তাই স্থানীয় প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন পুতিন।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিলের এক বিশেষজ্ঞ আলেক্সি নাইজনিকভ বলেছেন, দুর্ঘটনাটিকে রাশিয়ার ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম বলে মনে করা হচ্ছে।