শফিকুল ইসলাম মিন্টু, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী থেকে নাম কর্তনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২জুন) উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে নাম অর্ন্তভূক্তির দাবিতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। উক্ত ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবন্ধব কর্মসূচীর ৪বছরের আত্মস্বাতকৃত চাল ক্ষতিপূরণসহ ফেরতের দাবীতে শাহগঞ্জ বাজারে কার্ডধারী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

স্মারকলিপি গ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সোহেল রানা।
ইউএনও সেঁজুতি ধর জানান, আবেদনকারীদের পরিবর্তে যারা পেয়েছে তারা যদি অধিক প্রাপ্তির যোগ্যতা (দরিদ্র) সম্পন্ন হয় তাহলে পরিবর্তন করে পুনঃরায় দেয়ার সুযোগ নেই। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ২১৪নং কার্ডধারী কৃষ্ণপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল আজিজ জানান, তাদের সিংহভাগ মানুষ বাইড় (মাছ ধরার বাঁশের এক ধরনের যন্ত্র) তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অত্যন্ত দরিদ্র, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী ছাড়া সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধায় তাদের নাম নেই। মৃত ব্যক্তিদের নাম কর্তন করতে গিয়ে ‘আমরা জীবিতরাও’ নাম কর্তনের শিকার হয়েছি। ২১৫নং কার্ডধারী আব্দুল লতিফ জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন। তালিকায় নাম কর্তনের শিকার হন রহিমা খাতুন (কার্ড নং ৪০২), আজিজুল হক (৪০৮), আবুল কাসেম (৪০৫), আব্দুল বারেক (৪০৬), হাসেম আলী (৪২০), আব্দুর রেজ্জাক (৪০৭), আব্দুল কাদির (৪১৮), মোঃ আব্দুল সাত্তার (২০১), হাবিবুর রহমান (৪০৪), মোঃ বাচ্চু মিয়া (২৩২), উসমান (২৩৩), আব্দুর রশিদ (২১৩), মোঃ আব্দুল মুতালেব (২৫৩), অমিলা খাতুন (৪১২), রেনুয়ারা খাতুন (১৩৯২), হাজেরা খাতুন (৪২৬), হযরত (২১২), শিরিনা খাতুন (১৫), আকাশ মিয়া (৫০), আঃ ছালাম (৪১৯), আবু তালেব (৪১৬), পালিশ (২০০), সাইদুল ইসলাম (৪৩১), আমেনা খাতুন (৪০৩), ছোবান আলী (৫৭৬), হারুন মিয়া (৪১৫), শাহজাহান (২১১), আলেক মিয়া (১০৮৩), হাসু মিয়া (৮২২)। হাজেরা খাতুন জানান, তিনি শুধু দরিদ্র নন, সন্তানদের নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনেছি। আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।

অপরদিকে উক্ত ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টাকা কেজির চাল আত্মস্বাতের প্রতিবাদে রবিবার কার্ডধারী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সমাবেশে ৪বছরের আত্মস্বাতকৃত চাল উপকারভোগীদের ফেরত প্রদান, জড়িতদের শাস্তি প্রদান, ইউনিয়নের গাগলা মোড়ের বাজারে ডিলারের দোকান চালুকরণ ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়। সমাবেশে অচিন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদিন বলেন, ৪বছরে একজন কার্ডধারীর ৬শ কেজি চাল আত্মস্বাত করা হয়েছে। এ হিসেবে ২৭৯জন উপকারভোগীর ১৬৭.৪ টন চাল আত্মস্বাত করা হয়েছে। কার্ডধারীদের ক্ষতিপূরণসহ সেই চাল ডিলারদের ফেরত দিতে হবে। শুধু বরখাস্ত নয়, জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বক্তব্য রাখেন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ একলাস উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মজিবুর রহমান খান সুমন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

খবর পেয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব সরকার আন্দোলনকারীদের জানান, গাগলা মোড়ের বাজারে ডিলার সোমবার থেকে চাল বিতরণ শুরু করবে। চাল আত্মাসাতের ঘটনায় রুমন মিয়া নামে একজন ডিলারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

উক্ত সমাবেশ ইউনিয়নের খালিজুড়ি গ্রামের হেলেনা খাতুন নামের একজন জানান, তার স্বামী ফজলুল হক প্রতিবন্ধী এবং তার ৩সন্তান মানসিক প্রতিবন্ধী। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই ভিক্ষা করে সংসার চালান। ৪বছর পূর্বে তার নামে কার্ড হয়েছিলো। এরপর সেই কার্ড নিয়ে যায় ডিলার দেলোয়ার হোসেন খোকন। এরপর আর চাল দেয়নি। এ প্রসঙ্গে ডিলার দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, কার্ডের বিষয়টি আমার জানা নেই। এখন কার্ড থাকলে চাল পাবে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নিকট দু’দফায় অচিন্তপুর ইউনিয়নের প্রায় ৬শ কার্ডের চাল আত্মাসাতের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার নন্দন কুমার দেবনাথকে প্রধান করে ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অচিন্তপুর ইউনিয়নের ডিলার মোঃ রুমন মিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও এ ইউনিয়নের আরেক ডিলার সেলিম রেজা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছে।