এবার বিদায় ৫২ বছরের অভিসার

নিউজ ডেস্ক:   বাংলাদেশেরসিনেমা হল নিয়ে এককথায় যে মন্তব্যটা করা যায় সেটা হলো, ‘সোনালি অতীত এখন ধূসর বর্তমান’। দেশে নিবন্ধিত সিনেমা হলের মধ্যে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সব। সর্বসাকুল্যে দেশে এখন হলের সংখ্যা ৬০টিরও কম।

সিনেমা হল মালিকরা কম মুনাফার এই ব্যবসা ছেড়ে এখন অন্য লাভজনক ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। তারা সিনেমা হল ভেঙে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন। করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতে রাজধানীর আরও একটি হল বন্ধের খবর এলো।

এমনিতেই করোনাভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে সারা দেশের সব সিনেমা হল বন্ধ আছে অনেক দিন হয়। আর সিনেমা ব্যবসার দুর্দিন চলছে তো আরও অনেক আগে থেকেই। কোনো রকমে বেঁচে আছে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। কারণ সারা বছরে ব্যবসা সফল সিনেমা খুঁজে পাওয়া যায় না। এক বছরে সপ্তাহর বছরে ছবি হিট হয় হাতে দুই বা একটি।

লোকসানের কারণে ভেঙে ফেলা হচ্ছে রাজধানীর পুরোনো সিনেমা হলগুলো। সে তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে ৫২ বছরে ধরে চলে আসা রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল অভিসার। ২৬ কাঠা জায়গাজুড়ে অবস্থিত অভিসার সিনেমা হলটি ভেঙে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে বলে জানালেন হলটির মালিক সফর আলী ভূঁইয়া। তবে ছোট পরিসরে একটি সিনেমা হল করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সফর আলী ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে এখানে। এই ভবনে একটি কমিউনিটি সেন্টার থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য তলায় ব্যাংক-বীমা ও সায়েন্টিফিক সরঞ্জাম বিক্রির দোকান ভাড়া দেওয়া হবে। স্মৃতি হিসেবে ভবনে দেড়’শ আসনের ছোট একটি সিনেমা হল রাখার পরিকল্পনা আছে।’

১৯৬৮ সালের দিকে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় অভিষার। ১৯৯২ সালে দেনার দায়ে কে এম আর মঞ্জু ও সফর আলী ভূঁইয়ার কাছে অভিসার বিক্রি করেন। কেনার পর অভিসারের উপর ‘নেপচুন’ নামে আরেকটি সিনেমা হল তৈরি করেন তারা। এবার সেসব হারিয়ে যাওয়ার পালা।