দক্ষিণ কোরিয়ায় স্কুল খোলার একদিন পর বন্ধ

নিউজ ডেস্ক:   প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্কুল খুলে দেওয়ার একদিন পরই তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির বুচিওন শহরে বৃহস্পতিবার দুই শতাধিক স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একটি স্কুলে দুই শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পরই স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে ৫৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে সামাজিক দূরত্ব আরও কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সিউলের পশ্চিমে অবস্থিত বুচিওন শহরে বুধবার প্রথমদিন স্কুল খোলার পরই একটি প্রতিষ্ঠানে দুই শিক্ষার্থীর দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এতে ওই স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরই সংক্রমণের আশঙ্কায় বুচিওনের ২৫১ টি স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরো ১০০টি স্কুল খোলার কথা থাকলেও এখন সেগুলো খুলছে না।

সামাজিক দূরত্ব ও সুরক্ষাবিধি মেনে স্কুলগুলো খোলা হলেও দুই শিক্ষার্থী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই ক্লাস ছুটি ঘোষণা করা হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনলাইনেই ক্লাস নেওয়া হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আবারও ৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা আবারো দু’সপ্তাহের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় সামাজিক দূরত্ব কড়াকড়িভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজধানী সিউল এবং আশপাশের শহরগুলোতে জাদুঘর, পার্ক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এছাড়া বাসিন্দাদের গণজমায়েত এড়িয়ে চলার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তে হয়েছেন ১১ হাজার ৪০২ জন, মারা গেছেন ২৬৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৩৬৩ জন।

করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কখনো লকডাউন জারি করা হয়নি। দেশটির নাগরিকরা করোনা প্রতিরোধের জন্য স্বতস্ফুর্তভাবে সরকারের সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। এছাড়া বেশি করোনা টেস্ট এবং রোগী শনাক্ত করে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিল দক্ষিণ কোরিয়া।