ভারতীয় সিমান্তে চীন গারি গুনসা বিমানবন্দর নির্মাণ করছে

নিউজ ডেস্ক:    ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই লাদাখের কাছে বিমানঘাঁটি স্থাপন করেছে চীন। সদ্য স্থাপিত বিমানঘাঁটিটিতে দেখা গেলো যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি। বুধবার এক প্রতিবেদনে এমন খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

খবরে বলা হয়, উপগ্রহ থেকে নেওয়া ছবিতে দেখা গেছে প্যানগং লেক থেকে ২০০ কিমি দূরে অবস্থিত চীনের বিমানঘাঁটিতে নির্মাণ কাজ চলছে। ওই বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত চারটি যুদ্ধবিমানকে ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স’-এর জে-১১ বা জে-১৬ যুদ্ধবিমান বলে ধারণা করা হচ্ছে। জে-১১ বা জে-১৬ হল রাশিয়ান সুখোই ২৭-এর উন্নত সংস্করণ। এর সঙ্গে ভারতের সুখোই ৩০ এমকেআই-এর মিল রয়েছে।

গত ৫ ও ৬ মে প্যানগং লেকে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিট্রেসফা’ সূত্রে গারি গুনসা বিমানবন্দরের দুইটি ছবি সামনে এসেছে। একটি ৬ এপ্রিল তোলা। অন্যটি গত ২১ মে-র। দু’টি ছবিতেই দেখা গেছে, ব্যাপক হারে নির্মাণ কাজ চলছে সেখানে। দৃশ্যত সেখানে যুদ্ধবিমান বা হেলিকপ্টার রাখার ঘাঁটি হচ্ছে।

চীনের এই গারি গুনসা বিমানবন্দরের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ হাজার ২২ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই বন্দরটি সেনা ও যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রকৃত সীমান্তরেখার খুব কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এতটা উঁচু থেকে সেখানে কেবল সীমিত যুদ্ধ সামগ্রী ও জ্বালানি বহন করা সম্ভব।

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের যোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার সমীর যোশী জানিয়েছেন, ‘‘এই জাতীয় উচ্চতাতে মোতায়েন করা চিনা জে-১১ বা জে-১৬ যুদ্ধবিমানের কার্যকরী ক্ষমতা এক ঘণ্টার বেশি হবে না। বিভিন্ন বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলি বরং তিন থেকে চার ঘণ্টা লড়তে পারবে যদি আকাশপথে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হতে হয়।”

এদিকে, একদিন আগেই চীনের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।