আম্পানে লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গ, মমতাকে সোনিয়ার ফোন

নিউজ ডেস্ক:    ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের খোঁজ-খবর নিতে গতকাল বুধবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ফোন করেছেন ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

দেশটির সংবাদমাধ্যম কলকাতা ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নিতে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ফোন করেছেন সোনিয়া গান্ধী ও তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাজ্যের অবস্থা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে রাজ্যের পাশে থাকারও আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

গতকাল সর্বশক্তি নিয়েই সুপার সাইক্লোন আম্পান তাণ্ডব চালায় পশ্চিমবঙ্গে। সাগর থেকে ধ্বংসলীলা চালাতে চালাতে লন্ডভন্ড করে দেয় দুই ২৪ পরগনাসহ কলকাতা। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ধূলিসাৎ পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলা। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরমধ্যে কলকাতায় তিনজন মারা গেছেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গা শেষ হয়ে গেছে। দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুরসহ একাধিক অংশে কার্যত ধ্বংসলীলা চলেছে। তার আশঙ্কা অন্তত ১০-১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। সব ব্রিজ বন্ধ। ইলেকট্রিসিটি পুরো শেষ, পানির সংযোগ বন্ধ। কৃষিক্ষেত্র সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।’

রাজ্যের এমন পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে তিনটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রথমটা হলো করোনা, দ্বিতীয়টা হলো ভাসমান শ্রমিক ও তৃতীয় এই আম্পান।

এতটা ক্ষতি হবে, এমনটা আশা করেননি বলে দাবি করেম মুখ্যমন্ত্রী। ভাসমান শ্রমিকদের কোথায়, কীভাবে রাখবেন সেই উদ্বেগের কথাও প্রকাশ করেন মমতা।

রাজনীতি না করে কেন্দ্রের কাছে সাহায্যের আবেদনও জানান তিনি। সব ঠিক করতে ৪-৫ দিন সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেছেন।