আম্ফান মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলাসমূহে ব্যাপক প্রস্তুতি

নিউজ ডেস্ক:   বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন আম্ফান মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বাসসের খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা জেলা সংবাদাতাদের পাঠানো

সর্বশেষ সংবাদে জানায়- ‘আম্ফান’ মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলা খুলনায় সর্বত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলার ৩৬১টি আশ্রয় কেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৬০৮টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এদিকে, সাইক্লোন শেল্টারে মানুষকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাইকিং করা হচ্ছে। খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার বাসসকে জানান, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের ১০৮টি, কয়রার ১১৬টি, পাইকগাছার ৪৫টি ও বটিয়াঘাটার ২৩টিসহ ২৯২টি আশ্রয় কেন্দ্রকে আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি এড়াতে কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলায় রেডক্রিসেন্ট, সিপিপিসহ ৩ হাজার ৫৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এছাড়া, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) আরো ১ হাজার ১০০জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।

সুন্দরবন উপকূল সংলগ্ন কয়রা উপজেলা সদরের ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ূন কবির জানান, মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করার পরে তারা বিকেল থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করেছেন। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতোমধ্যে ৬০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। সকাল থেকেই মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং চলছে।

আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে করোনায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য ১১৬টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
ঘুর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে বাসসকে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে জেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কমিটি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৪ উপকূলীয় উপজেলা কমিটি জরুরি সভা করেছে।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ আরো জানান, জেলায় ৮৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ লাখ ৯৬ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৮৪ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং ১১ হাজার ৭০৮ জন সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।