৫-১০ ফুটের বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক:    এক যুগ আগের প্রলয়ঙ্করী অগ্নিচক্ষু সিডরের মতো ভয়াল শক্তিতে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’। অবিশ্বাস্য গতিতে ধাবমান বিধ্বংসী ক্ষমতার সাইক্লোনটির মুখ ও স্থলভাগে আঘাতের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশের সুন্দরবন। আজ মঙ্গলবার শেষ রাত কিংবা আগামীকাল বুধবার নাগাদ আঘাত হানতে পারে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিনে।

দেশের ১৪টি জেলা এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। জেলাগুলো হলো— সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম। বুলেটিনে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান জানান, গতকাল দুপুরের পর অতি ভয়াল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সামান্য উত্তর দিকে সরে এসেছে। এটি আরও ঘনীভূত হচ্ছে এবং প্রবল শক্তি সঞ্চয় করছে। এটি কিছুটা দিক পরিবর্তন করে উত্তর, উত্তর-পূর্বদিকে অগ্রসর হতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি আজ ১৯ মে শেষ রাত থেকে কাল ২০ মে বিকাল এই মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী অংশ দিয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, আম্ফানের প্রভাবে স্থানীয় উপকূলবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ ফুটের বেশি জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় যখন অতিক্রম করবে, সেখানে বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল জেলা এবং আরও যে দ্বীপ ও চরগুলো আছে সেখানে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

নোয়া স্যাটেলাইট চিত্রে অবলোকন করে জানা যায় যে, আম্ফানের ভয়ংকর ঘূর্ণিতে সাগর ফুঁসছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এটা ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৪ কিলোমিটার এবং ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২২৩ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি। সন্ধ্যা ৭টায় আম্ফান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার কিলোমিটার, কক্সবাজার, মংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়াবিদরা বলছে, তীব্রতার মাপকাঠিতে এই ঘূর্ণিঝড় এর মধ্যেই অনেক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এটি গতকাল সকালে এক্সট্রিমলি সিভিয়ার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। তার মাত্র ১ ঘণ্টা পরই বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ আম্ফান একটি সুপার সাইক্লোনে বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে তীব্রতর গতিতে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।