লকডাউন শিথিলের পর ইউরোপে খুলছে সমুদ্র সৈকত

নিউজ ডেস্ক:   করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো এখন যেন মৃত্যুপুরী। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ শিথিল করছে লকডাউন। দেওয়া হচ্ছে ভ্রমণের অনুমতি।

এর মধ্যে লকডাউন শিথিলের পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে খুলে দেওয়া হলো সমুদ্র সৈকত। এছাড়া গ্রিস কর্তৃপক্ষ তাদের দেশের ৫শ’র বেশি সৈকত পুনরায় খুলে দিচ্ছে।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস জানান, তিনি চান জুলাইয়ে শুরুটা যেন গ্রিসের পর্যটন মৌসুম হয়।

তবে আপাতত সৈকতে যাওয়া লোকদের সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। এছাড়া সৈকতে এক হাজার বর্গ মাইলের মধ্যে ৪০ জনের বেশি লোকের অবস্থান করার অনুমতি নেই।

অ্যাথেন্সের ভোলিয়াগমেনি সৈকতে সাঁতার কোচ ভ্যাসিলিস দেমেটিস জানান, তিনি আত্মবিশ্বাসী যে লোকেরা বিধিনিষেধগুলো অনুসরণ করে চলবে।

অ্যাথেন্সের একটি সমুদ্র সৈকত ছাতার নিচে অবস্থান করা ৭০ বছর বয়সী স্থানীয় ইয়ানিস টেন্টোমাস বলেন, ‘লকডাউন শিথিল হচ্ছে। প্রবীণদের জন্য সবচেয়ে ভালো এটা।’

তিনি জানান, সামাজিক দূরত্বের যে নিয়মগুলো আছে তিনি মেনে চলছেন। তবে তিনি বলেন, ‘এই নিয়ম যেন মাথার কাছে বন্দুকের মতো’।

এদিকে ফ্রান্সে লকডাউন শিথিলের প্রথম সপ্তাহে জনগণকে সর্তক থাকার জন্য বলে পুলিশ। কিন্তু শনিবার দেখা যায়, দেশের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত সার্ফিং স্পটগুলো যথারীতি ব্যবসা শুরু করেছে। উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সেখানে যাচ্ছে মানুষ।

অপরদিকে লকডাউন শিথিল করা ইতালিও ভ্রমণের অনুমতি দিতে যাচ্ছে। ৩ জুন থেকে বিদেশি দর্শনার্থীসহ দেশটির নাগরিকরা ভ্রমণের অনুমতি পেতে যাচ্ছেন। ইতালির সরকার এ বিষয়ে একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছে।

যেখানে জনগণকে দেশজুড়ে অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া তারা বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারবে। আর বিদেশি দর্শনার্থীরাও ইতালি ভ্রমণ করতে পারবে। করোনা ভাইরাসের কারণে এত দিন এসব অঞ্চলে কঠোরভাবে ভ্রমণ নিষিদ্ধ ছিলো।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস নিয়ে তথ্য দেওয়া ওয়ার্ল্ডোমিটারের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ফ্রান্সে করোনা ভাইরাসে শনিবার পর্যন্ত ২৭ হাজার ৫২৯ জন মারা গেছেন। আর আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৭৯ হাজার ৫০৬ জন। গ্রিসে মারা গেছেন ১৬০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮১০ জন।

অপরদিকে করোনা মহামারিতে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া ইতালিতে মারা গেছেন ৩১ হাজার ৬১০ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখের বেশি।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হার দেশগুলো মধ্যে ইতালি একটি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশটি। সূত্র: বিবিসি, ডেইলি মেইল